ভাসমান বাজারের জলের গুণগত মান ঠিক রাখতে তৈরি হবে বাগান! পাটুলির ভাসমান বাজারের জলে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে জলজ পরিবেশ রক্ষা করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চলেছেন কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ। 

কয়েক বছর আগে তৈরি এই ভাসমান বাজারে জলের উপরে নৌকাতেই চলে কেনাবেচা। অভিযোগ, সেখান থেকেই জলে অবাধে আবর্জনা ও প্লাস্টিক ফেলেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এমনকি, প্লাস্টিকে করে মাছ-মুরগির রক্তও জলে ফেলা হয়। এর জেরে জলের গুণগত মানের অবনতি ঘটে। কেএমডিএ সূত্রের খবর, ভাসমান বাজারে জল কোনও ভাবে বেড়ে গেলে তবেই তা নিকাশি নালা দিয়ে বাইরে বার করা হয়। ফলে ক্রমাগত দূষণে এই জলের গুণগত মান কমে যাচ্ছে। জলদূষণ রোধে এবং জলে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে আগে একটি যন্ত্র এই ভাসমান বাজারে বসানো হলেও তা বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। সে কারণেই এই বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন কেএমডিএ-র আধিকারিকেরা। 

কেএমডিএ সূত্রের খবর, নয়া এই পদ্ধতিতে জলের গুণগত মান বজায় রাখতে ভাসমান বাজারের জলাশয়ের বিভিন্ন অংশে তৈরি করা হবে এই বিশেষ দ্বীপ বা বাগান। সেই দ্বীপে থাকবে বিশেষ ধরনের গাছগাছালি, যা জলে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করবে। এই কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির দায়িত্বে থাকা মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রবীণ কুমার বলছেন, ‘‘বিভিন্ন ধরনের গাছ দিয়ে তৈরি হবে এই দ্বীপ। পাটজাত বস্তু এবং বায়োমাস দিয়ে এই দ্বীপ তৈরি করা হয়। এরা জলের মধ্যে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এই পদ্ধতি সফল হয়েছে।’’ 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

কেএমডিএ সূত্রের খবর, এই প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন এক জন উপদেষ্টা, যিনি এই সংক্রান্ত রিপোর্ট কর্তৃপক্ষকে জমা দেবেন। কী ধরনের গাছগাছালি এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন, তা উল্লেখ করা থাকছে এই রিপোর্টে। জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ যে লিটার প্রতি ২০-২৫ মিলিগ্রাম থাকতে হবে এবং নিয়মিত জলের নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে, সেই কথাও বলা থাকছে রিপোর্টে। এই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে তার পরে এই দ্বীপ নিয়ে কাজ শুরু করা হবে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে সমীক্ষাও শুরু হয়ে গিয়েছে। 

তবে প্রাথমিক ভাবে এই প্রকল্প নিয়ে কথা হলেও ভোটের কারণে এখনই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। কেএমডিএ সূত্রের খবর, নির্বাচনের পরে ওই রিপোর্ট জমা পড়বে। তার ভিত্তিতেই অর্থ বরাদ্দ করা হবে বেল জানিয়েছে কেএমডিএ।