• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জাদুর আসরেও এ বার শান্তির বার্তা

vote
প্রতীকী ছবি।

ভোটের মরসুম আর যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই শান্তির বার্তা দিতে আসছে জাদু!

অশীতিপর জাদুকরের ভেল্কিতে বন্দুক থেকে বেরিয়ে আসা গুলি যুদ্ধ বিরোধী মানুষের হাতে ধরা ফুলের তোড়ায় আটকে যাবে। ঝরে যাওয়া ফুল ফের গজিয়ে উঠে ভরিয়ে তুলবে তোড়া। এক সময়ে ক্লান্ত যোদ্ধার বন্দুকের নল থেকে বেরিয়ে আসবে ফুল। তত দিনে সে-ও ভুলে যাবে যুদ্ধের মন্ত্র।

আগামী ২৮ মার্চ প্রায় ৭০ বছরের পুরনো সংক্ষিপ্ত এই জাদু নাটকই অভিনীত হবে মোহর কুঞ্জে। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ম্যাজিক অ্যাসোসিয়েশনের (ফিমা) উদ্যোগে ২৮-৩১ মার্চ মোহরকুঞ্জে অনুষ্ঠিত হতে চলা জাদু মেলার এ বারের থিম, ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’। প্রায় ৮০০ জাদুকরের ওই মেলায় উদ্বোধন থেকেই চমক। প্রশাসনের অনুমতিতে এবং পুলিশের ব্যবস্থাপনায় বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে থেকে ক্যাথিড্রাল রোড ধরে মোহরকুঞ্জ পর্যন্ত চোখ বেঁধে মোটরবাইক চালাবেন জনা দশেক জাদুকর। চোখ বেঁধে চালানো হবে গাড়িও। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ম্যাজিক দেখাবে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুরাও। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান থেকেও জাদুকরেরা আসবেন এই মেলায়।

আরও পড়ুন: দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

জাগলিং, পুতুল নাচ, শ্যাডোগ্রাফি, সাধারণ ভেল্কি বা মাদারি ছাড়াও থাকছে হরবোলা এবং স্যান্ড অ্যানিমেশন। আলো এবং বাদ্যযন্ত্রের উপস্থিতিতে কাচের উপরে বালির রেখায় গল্প ফুটিয়ে তুলবেন শিল্পী। উদ্যোক্তাদের দাবি, সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ম্যাজিকের বিভিন্ন উপকরণকে মেলায় এক ছাতার তলায় নিয়ে আসছেন তাঁরা। 

জাদুকর ছাড়াও ট্রেনে-বাসে জাগলিং, হরবোলা, শ্যাডোগ্রাফির খেলা দেখানো শিল্পীদের সংগঠনের আওতায় এনেছে ফিমা। অভাবে 

দিন কাটানো মফস্সলের জাদুকরদের পাশে দাঁড়ানোও মেলার উদ্দেশ্য। সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় খড়গপুর আইআইটি-র প্রাক্তনী। তিনি জানান, বিজ্ঞান এবং বিনোদনের মিশেলে তৈরি ম্যাজিক, শিশু থেকে বৃদ্ধ— সব বয়সের মানুষকে আনন্দ দেয়। 

স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে ম্যাজিক নিয়ে আগ্রহ তৈরি করতে ম্যাজিক 

শেখানোর ব্যবস্থাও থাকছে মেলায়। সেখানেই গড়িয়ার বাসিন্দা প্রবীণ জাদুকর দীপক রায়চৌধুরী দেখাবেন যুদ্ধ-বিরোধী ম্যাজিক।

কিন্তু জাদুর মেলার থিমে যুদ্ধ বিরোধী বার্তা কেন?

সঞ্জয়ের মতে, ‘‘মাল্টিপ্লেক্স আর ভিডিয়ো গেমের যুগে যুদ্ধ নিয়ে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ছে ছোটদের মধ্যেও। যা কাম্য নয়। তাঁর কথায়, ‘‘যুদ্ধের বিরুদ্ধে বার্তা দিতে জাদুকে তাই মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছি। অন্তত কিছু সময়ের জন্য সকলের মন ভাল করে দিতে পারে।’’

চেষ্টা চলছে বুলেট কামড়ে ধরার খেলাও দর্শকদের সামনে তুলে ধরার। জাদুকর প্রিন্স শীলের ওই খেলা দেখানোর কথা। তবে 

তাতে বাদ সেধেছে নির্বাচনী বিধি। বন্দুক-সহ সব আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশের কাছে জমা দেওয়ায় ওই ম্যাজিক দেখানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পুলিশের অনুমতি নিয়ে বন্দুকের ব্যবস্থা করা গেলে দর্শকেরা বন্দুক থেকে ছুটে আসা গুলি কামড়ে ধরার দৃশ্যও দেখতে পাবেন।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন