কোথাও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পরিবেশ রক্ষার ভাবনা। কোনও পুজোয় উঠে আসছে সরকারি প্রকল্প, পুরাণ বা হারিয়ে যাওয়া শিল্পরীতি। সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে সাবেক পুজোও। প্রতিযোগিতার এই মেলায় সামিল লেক টাউন থেকে বাগুইআটি, কেষ্টপুর থেকে নিউ টাউন এবং সল্টলেক।
কেষ্টপুরের অর্জুনপুর আমরা সবাই-এর কারিগরেরা প্রায় সকলেই মুসলমান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনক্ষেত্র এই পুজোর থিম অন্তর্যামী। মণ্ডপের সামনে থাকছে ১৪ ফুটের ঘূর্ণায়মান চাকা। দু’টি ময়ূরের পেখমে আসীন প্রতিমা। সল্টলেকের ইই ব্লকের বার্তা সবুজ রক্ষা। ঘাসের মণ্ডপ। সাযুজ্য রেখে পরিবেশ রক্ষার ভাবনাই থিম নিউ টাউন বলাকা-র। মাটির তলায় বটগাছের শিকড় ও পোকামাকড়ের মাঝে আসীন প্রতিমা। বটের ঝুরি দিয়ে মূর্তি।
বছরখানেক আগে মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনায় তৈরি হয়েছিল কিষাণ মান্ডি। অশ্বিনীনগর বন্ধুমহলের এ বছর সেটাই বিষয়-ভাবনা। মাটির মডেল দিয়ে বিকিকিনির দৃশ্য থাকবে মণ্ডপে। আনাজ দিয়ে প্রতিমা। অশ্বিনীনগরের শিবশঙ্কর ইউনাইটেড-এর ভাবনা কন্যাশ্রী। প্রতিমার দশ হাতে থাকবে বই, পেনসিল। জগৎপুর যুবকবৃন্দের থিম বিশ্ব বাংলা। জগন্নাথধামের আদলে মণ্ডপ। ওড়িশা ও বাংলার সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে।
থিমের দৌড়েও সাবেকিয়ানায় সামিল কিছু পুজো। বাগুইআটি স্পোর্টস কাউন্সিলের থিম বাড়ির মেজাজে বারোয়ারি। জমিদার বাড়ির আদলে মণ্ডপ। বাগবাজারের প্রতিমার আদলে দুর্গা। ওই অঞ্চলেরই রেলপুকুর পাড় সর্বজনীনের থিম ‘ইচ্ছাপূরণ’। ঢোকার মুখেই থাকছে বড় ঘণ্টা। তার পরে শিবলিঙ্গ পেরিয়ে যেতে হবে প্রতিমার সামনে। দেবী এখানে অস্ত্রহীন। ন’টি হাতে পদ্ম, এক হাত তুলে আশীর্বাদ করছেন তিনি। সল্টলেক এজে ব্লকের মণ্ডপও জমিদার বাড়ির আদলে। সাবেক প্রতিমা।
এ বছর বেশ কিছু পুজোর ভাবনায় রয়েছে ইতিহাস বা পুরাণ। দমদম পার্ক সর্বজনীন জাতক কাহিনিকে ভিত্তি করে ঘড়ির সাহায্যে প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জায় তিন শিল্পের মেলবন্ধন ঘটাবে। জাপানি কিরিগিমি, ভারতীয় মৃৎ ও ঠোকাই শিল্প দেখা যাবে এখানে। সল্টলেকের ডিবি ব্লকের থিম উপলব্ধি। জরা-ব্যাধি-মৃত্যুর পরে মোক্ষলাভ ও পুর্নজন্মের বৌদ্ধ ভাবনা থাকছে। শুকনো ফুল-ফল, মুখোশ, খুলির গড়নে টেরাকোটা শিল্প।
সল্টলেকের বিবি ব্লকে থাকছে দুর্গার আবির্ভাবের নেপথ্যে বিষ্ণুর বিভিন্ন রূপ। প্রথম ভাগে কৃষ্ণ, পরে জগন্নাথ এবং শেষে বালাজির কথা তুলে ধরা হবে। শেষ ভাগে তিরুপতি মন্দিরের আদলে মণ্ডপ। লেক টাউন প্রগতি পল্লির পুজোয় শক্তির প্রতীক দেবী। ত্রিশূল, খড়্গ, গদা, চক্র এবং প্রতিমার মুখে শক্তির সেই রূপ। সল্টলেক সিএ ব্লক থিম করেছে জয়দেবের গীতগোবিন্দকে ঘিরে। প্রতিমা ঢালাই করা পিতল সদৃশ। ময়ূরের পেখম দিয়ে নানা কারুকাজ।
থিম নিয়ে অন্য রকম ভাবনাও আছে। কেষ্টপুরের প্রফুল্লকানন সর্বজনীন বালক বৃন্দ (পূর্ব)-এর থিম অণু থেকে সৃষ্টি। পুকুর ঘিরে গোল মণ্ডপ। জল নিরোধক বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে মণ্ডপ সাজছে। মানানসই প্রতিমা। দক্ষিণ রবীন্দ্রপল্লি সর্বজনীনে মণ্ডপ সাজছে বাঁকুড়ার দশাবতার তাস দিয়ে। সল্টলেকের বি ই (পূর্ব) থিম হিসেবে বেছেছে পদ্মকে। নাটমন্দিরের আদলে মণ্ডপের চূড়া পদ্মের আদলে।