প্রথমে মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়। তার পরে চেতলা লক গেট সেতু বন্ধ। এই জোড়া বিভ্রাটে আলিপুর, নিউ আলিপুর, বেহালা, টালিগঞ্জ-সহ চেতলার বাসিন্দারা প্রতিদিন যাতায়াতের পথে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ছেন। অভিযোগ, কয়েক কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে ঘণ্টাখানেক লেগে যাচ্ছে। এই দুর্ভোগ কমাতে টালি নালার উপরে তৈরি দু’টি নতুন সেতু পুজোর আগেই খুলে দিতে চায় পুলিশ-প্রশাসন। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কমিটির ছাড়পত্র পেলে শীঘ্রই খুলে দেওয়া হতে পারে চেতলা লক গেট সেতুও।

এই তিনটি সেতুর বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখতে বুধবার সেগুলি পরিদর্শন করেন পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা এবং মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পুলিশ এবং কেএমডিএ-র আধিকারিকেরা। সূত্রের খবর, সেখানেই ঠিক হয়, টালিগঞ্জের করুণাময়ী সেতুর পাশে নতুন সেতুটির দু’পাশের রাস্তার বাকি কাজ শেষ করে সেটি মহালয়ের আগেই খুলে দেওয়া হবে। টালি নালার উপরে সেতুটির এক দিকে সিরিটি শ্মশান, অন্য দিকে উত্তমকুমার সরণি। ওই সেতু দিয়ে বেহালা থেকে টালিগঞ্জের দিকে গাড়ি যাওয়ার কথা। এ দিন দু’জায়গাতেই দাঁড়িয়ে ফিরহাদ জানান, সেতু দু’টি পুজোর আগে চালু হচ্ছে।

তবে পুরমন্ত্রী এই আশ্বাস দিলেও নিউ আলিপুরের বি এল শাহ রোড এবং টালিগঞ্জের ইজাজাতুল্লা লেনের সংযোগকারী সেতুটি চালু হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ ইজাজাতুল্লা লেনের উপরে তৈরি হয়েছে স্থানীয় একটি ক্লাবের পুজো মণ্ডপ। এ দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ করার কথা বলেন ফিরহাদ। সেতুর সংযোগকারী রাস্তার
কাজও শেষ করতে নির্দেশ দেন আধিকারিকদের। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, মণ্ডপ না সরালে গাড়ি চলবে কেমন করে? সমস্যা দূর করতে মেয়র কথা বলেন পুজো কমিটির সঙ্গে। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা পুজো সরাতে রাজি হননি। পরে মেয়র ওই মণ্ডপের ঠিক পাশে থাকা একটি ক্লাবের জমিতে যাতে পুজো করা যায়, তা নিয়ে কমিটির সঙ্গে কথা বলেন। সব রকম সহযোগিতারও আশ্বাসও দেন। ফিরহাদ বলেন, ‘‘ওই ক্লাবের তরফে রাস্তা চওড়া করার জন্য আড়াই মিটার জায়গা ছাড়ার কথা রয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলব, যাতে সেখানে পুজো করা যায়।’’ সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির সম্পাদক প্রদীপ ধর বলেন, ‘‘ক্লাবের ভিতরে জায়গা দিলে আমরা সেখানেই পুজো করব। কিন্তু জায়গা না পেলে রাস্তাতেই পুজো হবে। তবে পুজো বন্ধ হবে না বলে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।’’

পরে পুলিশ কমিশনার এবং পুরমন্ত্রী চেতলা লক গেট সেতু ঘুরে দেখেন। মন্ত্রী জানান, বিশেষজ্ঞ কমিটি ওই সেতুর ভবিষ্যৎ ঠিক করবে। তার পরেই সন্ধ্যায় পুর ভবনে ওই কমিটির সঙ্গে এক বৈঠক হয় মেয়রের। বৈঠকের পরে কমিটির সদস্যেরা চেতলা লক গেট সেতু ঘুরে দেখেন। জানা গিয়েছে, সেতুটি আদৌ ব্যবহার করা যাবে না কি বিকল্প কোনও পথ তৈরি হবে, তা নিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার
রিপোর্ট দেবে বিশেষজ্ঞ কমিটি। তবে পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, পুজোর আগেই যান চলাচলে ছাড়পত্র মিলতে পারে নিউ আলিপুর এবং চেতলার সংযোগকারী ওই সেতুতে।