ফাটল মেরামতির জন্য উল্টোডাঙা উড়ালপুল বন্ধ করে দেওয়ায় ভোগান্তির যে ছবি মঙ্গলবার রাতে দেখা গিয়েছিল, বুধবারেও তাতে কোনও বদল হল না।

এ দিন সকাল থেকেই ই এম বাইপাসে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে বিমানবন্দর ও ভিআইপি রোডমুখী অসংখ্য গাড়ি। একই অবস্থা হয় ভিআইপি রোডের দিকেও। শুধু তা-ই নয়, যানজটের জের ছড়িয়ে পড়ে বাইপাস সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকাতেও। বেলেঘাটা, উল্টোডাঙা ছাড়াও দক্ষিণ দমদম, লেক টাউন, বরাহনগর, নাগেরবাজারেও ছিল তীব্র যানজট। আটকে যায় অ্যাম্বুল্যান্সও। যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে নাজেহাল হয় পুলিশ।

যানজটে বহু ক্ষণ আটকে থাকার পরে এ দিন অনেকেই গাড়ি ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন। বিমানবন্দর এলাকা থেকে উল্টোডাঙায় চিকিৎসকের কাছে আসতে দুপুর একটা নাগাদ বেরিয়েছিলেন সত্তর বছরের বৃদ্ধ রাজবল্লভ সাহা। যানজটে আটকে ঘণ্টা দেড়েক পরে পৌঁছেছেন উল্টোডাঙায়। ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়। হাডকো মোড়ের কাছে যানজটের জেরে তাঁকে নেমে পড়তে হয় বাস থেকে। তার পরে হেঁটে আসেন বাকিটা পথ।

একই অবস্থা ছিল বেলেঘাটা বাইপাস মোড়ের ঠিক মুখে। অফিসের সময় শুরু হতেই সকাল থেকে শুরু হয় যানজট। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে ফুটপাত ধরে হাডকোর দিকে এগোতে থাকেন। দুপুরের দিকে যানজট সামান্য কমলেও যান চলাচলের গতি ছিল খুবই শ্লথ। এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ ইসরাফিল জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে উল্টোডাঙা উড়ালপুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আপাতত হাঁটা ছাড়া কোনও উপায় নেই। অন্য দিকে, রাস্তায় প্রবল যানজটের কারণে হাডকো মোড় থেকে অটো চলাচলও প্রায় অনিশ্চিত। অটোচালকদের অনেকেই এ দিন জানান, যানজটের কারণে তাঁরা অটো চালাতে পারছেন না। 

যাত্রীদের অনেকেরই আবার অভিযোগ, যানজটের অজুহাতে যা খুশি ভাড়া হাঁকছেন অটোচালকেরা। প্রমথেশ মাইতি নামে সল্টলেকের এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘মঙ্গলবার রাত থেকেই যানজটের কথা জানি। সেই কারণে এই রাস্তা দিয়ে না গিয়ে সোজা রাজারহাট দিয়ে যাব।’’ সাধারণ মানুষের অনেকের অভিযোগ, উড়ালপুল বন্ধের কারণে কোন দিক দিয়ে যাওয়া যাবে, তা নিয়ে রাস্তায় কোনও নির্দেশিকা না থাকায় তাঁদের মুশকিলে পড়তে হয়।

মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে উড়ালপুল বন্ধ করে দেওয়ায় অসুবিধায় পড়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। রাতেও যানজটে আটকে ছিল বহু গাড়ি, এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সও। মঙ্গলবারও গভীর রাত পর্যন্ত বাইপাসে যানজট ছিল।

কেন হচ্ছে যানজট?

উল্টোডাঙা উড়ালপুল বন্ধ থাকায় বিমানবন্দরমুখী অধিকাংশ গাড়িই এখন বেরোচ্ছে হাডকো দিয়ে। গাড়ির সংখ্যা বেশি থাকায় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। অন্য দিকে, ভিআইপি রোড থেকে আসা বাইপাসমুখী সমস্ত গাড়িকেই বিধাননগরের দিক দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। আবার বিধাননগর থেকে বেরিয়ে ভিআইপি রোডের দিকে যেতে কাদাপাড়া ও চিংড়িঘাটা দিয়ে গাড়ি ঘোরানো হচ্ছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অনেকেই যানজটের মধ্যে গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা ধরে বেরোতে চাইছেন। সেই কারণে যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।