তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রোগীকে হাসপাতালের কার্ডিওথোরাসিক বিভাগে ভর্তি করিয়ে দেবেন। রফা হয়েছিল ৭ হাজার টাকায়। কিন্তু কথা মতো ভর্তি করতে না পারায় রোগীর পরিজনের সঙ্গে বচসা বাধে ওই দুই মহিলার। শেষে পুলিশ এসে তাঁদের গ্রেফতার করে।

ঘটনাটি এসএসকেএম-এর। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত রুনা কয়াল এবং স্বাগতা দাস আদতে দালাল। রুনা ঠাকুরপুকুরের বাসিন্দা। স্বাগতার বাড়ি সাঁকরাইলে। দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালে দালাল-চক্র চালাচ্ছিলেন রুনা। পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি সাঁকরাইলের বাসিন্দা সমীর দাস তাঁর বোন মালতি দলুইকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। স্বাগতাই রুনার সঙ্গে সমীরের পরিচয় করান। অভিযোগ, মালতীকে ভর্তি করাতে সমীরের কাছে টাকা চান রুনা।

কথা মতো দিন কয়েক আগে দু’হাজার টাকা ও শুক্রবার চিকিৎসককে দেখানোর আগে রুনাকে আরও এক হাজার টাকা দেন সমীর। কিন্তু তার পরেও হাসপাতালে মালতীর ভর্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। বচসায় জড়ান রুনা এবং সমীর। হাসপাতালকর্মীরা বচসা থামাতে গিয়ে বিষয়টি জানলে খবর যায় পুলিশে।

এ দিনই সন্ধ্যায় মল্লিকা দত্ত নামে আরও এক মহিলা দালালকে এসএসকেএম থেকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, বাদুড়িয়ার বাসিন্দা বিলকিস বেগমকে স্ত্রী-রোগ বিভাগে ভর্তি করিয়ে দেবেন বলে তিনি টাকা নিয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, দালাল-চক্র রুখতে সব কর্মীদের নির্দিষ্ট পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওয়ার্ডে বহিরাগত প্রবেশ আটকাতে ব্যবস্থা করা হয়েছে ট্রলি পার্সনের। প্রতিটি বিভাগে বারবার রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের বলা হয়, সব পরিষেবা মিলবে বিনামূল্যে। তার পরেও অনেকে দালালকে টাকা দিয়ে ভর্তি করাতে চান। তাই হাসপাতালের নজরদারির পাশাপাশি মানুষকেও সচেতন হতে হবে।