মায়ানমার দূতাবাসের এক আধিকারিককে নিতে বিমানবন্দরে গিয়েছিল গাড়ি। টার্মিনালের সামনে গাড়িটি দাঁড় করিয়ে আধিকারিকের অপেক্ষা করছিলেন চালক। সেই গাড়ির চাকায় কাঁটা লাগানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরের গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা বাবুলাল নামে এক ঠিকাদারকে গ্রেফতার করল বিমানবন্দর পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে ওই ঠিকাদারের এক কর্মীকেও। পরে তাঁরা থানা থেকে জামিন পান।

কলকাতা বিমানবন্দরে গাড়ি পার্কিং নিয়ে সমস্যা দীর্ঘ দিনের। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, টার্মিনালের সামনে তিন মিনিটের বেশি গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখলে জরিমানা দিতে হবে। তবে এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়ার কথা অ্যাম্বুল্যান্স এবং বিদেশি দূতাবাসের গাড়িগুলিকে। এ দিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই এলাকায় কর্তব্যরত বাবুলালের কর্মীরা দেখতে পান, আন্তর্জাতিক আগমনের (ইন্টারন্যাশনাল অ্যারাইভাল) গেট নম্বর ৪এ-র সামনে একটি গাড়ি অনেক ক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই সময়ে গাড়ির চালক ভিতরে ছিলেন না। তবে গাড়ির নম্বর প্লেটে মায়ানমার দূতাবাসের সিসি নম্বর ছিল। অভিযোগ, তা সত্ত্বেও বাবুলালের কর্মী গাড়িটির সামনের ডান দিকের চাকায় কাঁটা লাগিয়ে দেন।

এর পরে বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। যে কর্মী চাকায় কাঁটা লাগিয়েছিলেন, তাঁকে ডেকে কাঁটা খোলানো হয় ও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে আসেন বাবুলালও। তিনি যুক্তি দেন, প্রতিটি দূতাবাসের কাছে একটি গাড়ির জন্য পাস দেওয়া আছে। তাই টার্মিনালের সামনে না দাঁড়িয়ে দূতাবাসের গাড়ির ভিআইপি পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা উচিত ছিল। পরে বাবুলালকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে অবশ্য বিমানবন্দরে পৌঁছে ওই গাড়ি করেই নির্বিঘ্নে গন্তব্যে চলে যান দূতাবাসের ওই আধিকারিক।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাবুলাল অভিযোগ করছেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে মাসে মাসে বিশাল অঙ্কের টাকা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় ঠিকাদারদের। তাই সামান্য অনিয়ম দেখলেই কড়া ব্যবস্থা নেন তাঁর কর্মীরা। অভিযোগ, হরিয়ানা থেকে যে কর্মীদের নিয়ে এসে এ শহরে কাজে রেখেছেন বাবুলাল, তাঁরা ভয়ঙ্কর রকম রূঢ়। 

এর আগে ২০১৬ সালে বিমানবন্দরের পার্কিংয়ের নিয়ম ছিল, টার্মিনাল চত্বরে ঢোকার ১০ মিনিটের মধ্যে কোনও গাড়ি বেরিয়ে গেলে টাকা লাগবে না। কিন্তু অভিযোগ, সে সময়ে বাবুলালের কর্মীরাই বেরোনোর মুখে ইচ্ছে করে যানজট তৈরি করে সেই সময়সীমা পার করিয়ে দিতেন। সেই সময়ে এমন পার্কিং সংক্রান্ত এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এক বার গ্রেফতার করা হয়েছিল বাবুলালকে। 

এমন অভিযোগের জেরে মাঝে বাবুলালের কাছ থেকে পার্কিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে নেওয়া হয়। নতুন নিয়ম হয়, কোনও গাড়িকেই (বাণিজ্যিক ছাড়া) যাত্রী তোলা বা নামানোর জন্য টাকা দিতে হবে না। প্রশ্ন ওঠে, সে ক্ষেত্রে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য টার্মিনালের সামনে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে যানজট হবে। এর পরেই তিন মিনিটের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এ বছরে মাঝামাঝি বাবুলাল  আবারও পার্কিংয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।