একই দিনে শহরের দুই প্রান্তে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে দু’টি মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মারা যান ট্যাংরার বাসিন্দা লি সেওং কুয়োং (২৪)। বিকেলে আর জি করে মৃত্যু হয় বছর ষোলোর পূজা দাসের। মৃতার বাবার অভিযোগ, ডেঙ্গিতে মেয়ের মৃত্যু হলেও ডেথ সার্টিফিকেটে তা লেখা হয়নি।

গত ৩১ অক্টোবর সল্টলেকের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন লি সেওং কুয়োং। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ডেঙ্গি জ্বরের মধ্যে সেপ্টিক শক এবং তা থেকে একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে যুবকের। হেপাটাইটিস বি-র কারণে তাঁর যকৃৎও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

আবার কলকাতা পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাজার এলাকার বাসিন্দা পূজা সোমবার থেকে জ্বরে ভুগছিল। মৃতার বাবা ডিনো দাস বলেন, ‘‘ওই দিনই পুরসভার ক্লিনিক থেকে মেয়ের রক্ত পরীক্ষা করাই। এসএমএসে পূজার ডেঙ্গি হয়েছে বলে পুরসভা জানায়। পুরসভার চার প্রতিনিধি আমাদের বাড়িতে এসে মেয়েকে দ্রুত আর জি করে ভর্তি করাতে বলেন। ফের রক্ত পরীক্ষা না করে আর জি কর মেয়েকে ভর্তি নিতে চায়নি। দ্বিতীয় বার রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি ধরা পড়ার পরে মেয়েকে ভর্তি নেয় তারা।’’

মঙ্গলবার থেকে চিকিৎসাধীন থাকার পরে এ দিন বিকেলে মৃত্যু হয় পূজার। ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা হয়, ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ডিউ টু হাইপোক্সিয়া ডিউ টু পালমোনারি হেমারেজ ফলোয়িং অব আননোন অরিজিন’। ঘটনা ঘিরে এ দিন রাত পর্যন্ত বাগবাজার উইমেন্স কলেজের সামনে পূজার দেহ রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয়। রাস্তা অবরোধও চলে। 

পুর কর্তৃপক্ষ জানান, এ দিন শহরে ডেঙ্গি মৃত্যুর কোনও খবর তাঁরা পাননি। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপি ঘোষ বলেন, ‘‘হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গির উল্লেখ ছিল না। তা হলে এটা ডেঙ্গিতে মৃত্যু কী করে বলব?’’