তাঁর ‘মশকরা’র জেরে সোমবার নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুটা পরে ওড়ে জেট এয়ারওয়েজের একটি বিমান। দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বেলেঘাটার বাসিন্দা সেই ছাত্র নাকি ‘টেররিস্ট’ শব্দের সঠিক অর্থই জানেন না!

মঙ্গলবার এমনটাই দাবি করেছেন সদ্য ক্যাট পরীক্ষা দেওয়া যোগবেদান্ত পোদ্দার নামের সেই ছাত্রের বাবা নির্মল পোদ্দার।
সোমবার সকালে মুম্বই যাওয়ার জন্য জেট এয়ারওয়েজের একটি বিমানে চড়েছিলেন যোগবেদান্ত। সোমবারই ছিল মুম্বইয়ে জঙ্গি হানার দশ বছর পূর্তি। ঘটনাচক্রে যোগবেদান্ত মুখে রুমাল চাপা দিয়ে বিমানে বসে কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে চ্যাট করছিলেন। সেই চ্যাটে তিনি ইংরেজিতে যা লিখেছিলেন, তার বাংলা অর্থ বিমানে জঙ্গি রয়েছে। তাঁর সেই ইংরেজি কথোপকথনটি দেখতে পান এক বিদেশি যাত্রী। তিনি বিমানসেবিকাকে বিষয়টি জানান। এর পরেই হুলস্থূল বেধে যায়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের গোয়েন্দারা যোগবেদান্তকে জেরা করেন। যোগবেদান্ত দাবি করেন, তিনি বিষয়টি মজা করে করেছেন। বিমান ছাড়তে প্রায় সওয়া এক ঘণ্টা দেরি হয়।

এমনকি, বিমান সংস্থা সূত্রে খবর, কয়েক জন যাত্রী মুম্বই থেকে কানেক্টিং উড়ানও ধরতে পারেননি। মঙ্গলবার যোগবেদান্তের বাবা নির্মল পোদ্দার জানিয়েছেন, মুম্বইয়ে জঙ্গি হানার কথা জানতেন না ছেলে। এমনকি, তাঁর দাবি, ছেলে টেররিস্ট শব্দের সঠিক অর্থ জানলে তা বিমানের ভিতরে বসে লিখতেন না। তবে তাঁর দাবি মানছেন না অনেকেই। পুলিশ সোমবারই যোগবেদান্তকে ছেড়ে দিয়েছিল।
বিমানের ভিতরে গোলমাল না করলে, কাউকে সরাসরি হুমকি না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। জেট কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, উড়ানে বসে বন্ধুদের ‘টেররিস্ট অন ফ্লাইট’ বার্তা পাঠিয়েও তাই ছাড় পেয়েছেন ওই ছাত্র। তবে তাঁর দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেট এয়ারওয়েজ ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন এর কর্তারাও।
তাঁদের প্রশ্ন, সোমবারই যে মুম্বই হামলার দশ বছর পূর্তি ছিল, সে কথা কি জানতেন না ওই যুবক? কর্তাদের প্রশ্ন, টানটান নিরাপত্তায় মোড়া এমন একটি দিনে বিমানের ভিতরে বসে তাঁর ‘মজাদার’ বার্তার জেরে এত মানুষকে যে সমস্যায় পড়তে হল, তার দায় কে নেবে?