ঘিঞ্জি এলাকায় টালির ঘরের ভিতরে আচমকা গুলির শব্দ শুনে হকচকিয়ে গিয়েছিলেন তরুণী। টালির ঘরের কিছুটা দূরে বসেছিলেন তিনি। গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে তিনি টালির ঘরে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে রয়েছেন ঘরের বাসিন্দা আর এক তরুণী। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম তরুণীকে রীতিমতো ধাক্কা মেরে ঘরের ভিতর থেকে ছিটকে বেরিয়ে চম্পট দিল দুই যুবক।

শনিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে টিটাগড়ের তালপুকুর এলাকার যৌনপল্লিতে। পুলিশ জানায়, গুলিতে নিহত তরুণী সেখানকারই এক যৌনকর্মী। তিনি আদতে বনগাঁর বাসিন্দা হলেও ওই যৌনপল্লিতেই এক মহিলার ঘরে ভাড়া থাকতেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ গৌতম হেলা ও কৃষ্ণ সিংহ নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতেরাই ঘটনার পরে ওই যৌনকর্মীর ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। তারাও টিটাগড়েরই বাসিন্দা। কেন ওই তরুণীকে খুন করা হল তার কারণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ জানায়, নিহতের ঘর থেকে গুলির শব্দ পেয়ে যে তরুণী প্রথমে ছুটে যান, তাঁর দাবি, এ দিন দুপুরে গৌতম ও কৃষ্ণ বাইক নিয়ে এসেছিল। তারা দু’জনেই ওই যৌনকর্মীর ঘরে ঢুকেছিল। দুপুর ২টো নাগাদ আচমকাই ওই ঘর থেকে গুলির শব্দ শুনে তিনি ছুটে যান। ওই তরুণী বলেন, ‘‘ঘরের বন্ধ দরজা খুলতেই দেখি, দিদি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছেন। আর তখনই গৌতম ও অন্য জন আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে ছুটে পালায়।’’ ওই তরুণীর চেঁচামেচিতে অন্যেরা এসে ওই যৌনকর্মীকে বি এন বসু মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ওই যৌনকর্মীর মুখে গুলি করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।

নিহতের ঘরের ভিতরে খাটের উপর থেকে খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, একটি মোবাইল এবং ঘরের বাইরে দাঁড়ানো মোটরবাইকটি আটক করে পুলিশ। এর পরে তল্লাশি চালিয়ে টিটাগড় রেললাইনের পাশের একটি এলাকা থেকে ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।