নিমতার সঞ্জীবন মণ্ডলকে খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হল তাঁর ভাই। ঘটনার পরে ওই ব্যক্তির স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, জেরায় ওই মহিলা তার দেওরের জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেন। রবিবার রাতে সঞ্জীবনের ভাই বিশ্বজিৎকে গ্রেফতার করে নিমতা থানার পুলিশ। বিশ্বজিৎকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার নিমতা থানা ঘেরাও করেন স্থানীয়েরা।

গত শনিবার রাতে পূর্ব আলিপুরের বাসিন্দা সঞ্জীবনের গলার নলি কাটা দেহ উদ্ধার হয়েছিল বাড়ির পিছনের জঙ্গল থেকে। তদন্তে পুলিশ জানে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে স্ত্রী অনিতার সঙ্গে প্রায়ই অশান্তি হত সঞ্জীবনের। পুলিশ জানায়, ওই দিন রাতে অনিতাকে আটক করে জেরা করতেই সে স্বীকার করে স্বামীকে খুনের কথা। কিন্তু এক জন পূর্ণবয়স্ক লোককে খুন করে জঙ্গলে ফেলে আসার কাজ কারও একার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই সন্দেহ ছিল তদন্তকারীদের। ফলে অনিতাকে আরও জেরা করে পুলিশ। এর পরেই অনিতা তার দেওর বিশ্বজিতের নাম বলে।

পুলিশ সূত্রের খবর, জেরায় অনিতা জানায় বিশ্বজিৎ তার দাদার গলার নলি কেটেছিল। এর পরে বৌদি ও দেওর মিলে সঞ্জীবনের দেহটি জঙ্গলে ফেলে আসে। পূর্ব পরিকল্পনা মতো ঘরে রক্ত পড়ে রয়েছে, স্বামীকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পড়শিদের জানায় অনিতা। অন্য দিকে খুনের পরে নিজের দোকানে ফিরে গিয়েছিল বিশ্বজিৎ। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতারের পরে বিশ্বজিৎ তার বউদি-র সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা এবং দাদাকে খুনের কথা স্বীকার করেছে।

যদিও ছোট ছেলে বিশ্বজিৎকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি মা যোগমায়াদেবীর। তিনি বলেন, ‘‘বাড়িতে অশান্তির সময়ে অনিতা হুমকি দিত, কোনও কিছুতে ফাঁসলে সে বাড়ির সকলকে তাতে জড়াবে। তাই মিথ্যা কথা বলে বিশ্বজিৎকে ফাঁসিয়ে দিল।’’ বাবার খুনের ঘটনায় কাকা জড়িত নয় বলে দাবি সঞ্জীবনের পনেরো বছরের ছেলেরও। তার কথায়, ‘‘কাকা এ কাজ করেননি। মায়ের সঙ্গে তো কাকা কখনও কথাই বলতেন না।’’