চারদিকে লম্বু গাছের সারি। আম বাগান। নির্জন এলাকা। গাছের গায়ে হলুদ রঙের নাইলনের দড়ি দিয়ে ত্রিপল লাগানো। রাত বাড়লে সেখানে জ্বলে উঠত আলো।

লোকে জানত, অশোকনগরের বেলেখালি গ্রামের ওই জঙ্গলে ঝালাইয়ের কাজ চলত। অপরিচিত মুখের আনাগোনা ছিল সেখানে। তাও সন্দেহ হয়নি কাছেই পুমলিয়া গ্রামের লোকের। কারণ, সেখানকার বাসিন্দা সুদাম মজুমদার নামে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রির ওঠাবসা ছিল তাদের সঙ্গে।

তবে পুলিশের কাছে ছিল অন্য খবর।

তারই ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে জঙ্গল-ঘেরা ওই এলাকায় অভিযান চালায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। সন্ধান মেলে বেআইনি অস্ত্র কারখানার। ধরা পড়েছে পুমলিয়ার সুদাম ও শ্রীকৃষ্ণপুরের মানিক ঘোষ। সুদামকে জেরা করে উদ্ধার হয়েছে ৯টি পাইপগান। অস্ত্র তৈরির প্রচুর যন্ত্রপাতিও আটক হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘সুদাম জেরায় স্বীকার করেছে, সে ওই বাগানে অস্ত্র তৈরি করত।’’ কারবারে আরও কারা জড়িত, তাদের খোঁজ চলছে। কাদের কাছে সুদাম আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করত, তা-ও জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিজিৎবাবু। ধৃতদের বুধবার বারাসত জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৫ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার সিআইডি অফিসারেরাও অশোকনগর থানায় এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ধৃতদের।

এখানেই বানানো হত অস্ত্র।

বেলেখালি গ্রামের ওই জঙ্গলে এ দিনও চোখে পড়েছে ত্রিপল টাঙানো জায়গাটি, যেখানে বসে সুদামরা অস্ত্র বানাত বলে অভিযোগ। একটি উনুন, মাটির বালতি পড়ে ছিল। ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল লোহার পাত, রড। কয়েকশো মিটার বহু দূর থেকে হুকিংয়ের তার টেনে আলো জ্বালানো হত ত্রিপলের নীচে।

তদন্তকারীদের দাবি, মাস সাতেক ধরে ওই জঙ্গলে বসে কারবার চালাচ্ছিল সুদামরা। মাস কয়েক আগে অশোকনগরের মাটিয়াগাছায় একটি বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ অস্ত্র তৈরির কারখানা ফাঁদার মতলব ভেস্তে দিয়েছিল। ওই কারবারিদের সঙ্গে সুদামের কোনও যোগ রয়েছে কিনা, তা-ও দেখছেন তদন্তকারীরা।