পুলিশের খোয়া যাওয়া সার্ভিস রিভলভার এখনও উদ্ধার করতে পারেনি ব্যারাকপুর কমিশনারেট।

মাস দেড়েক আগে ভাটপাড়ায় বিজেপির পথ অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে দলের কর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়তে দেখা গিয়েছিল ওই দিন। গোলমালে মাথা ফাটে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহের। 

পরে জানাজানি হয়, গোলমালের মধ্যে পড়ে পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষীর রিভলভারটি উধাও। পুলিশের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্রটি ছিনতাই বা লুট হয়নি। অসাবধানবশত কোনও ভাবে কোমরের খাপ থেকে পড়ে যায়। 

কিন্তু সেটি গেল কোথায়?

ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (জোন ১) অজয় ঠাকুর বলেন, “আমরা কিছু সূত্র পেয়েছি। আশা করছি, শীঘ্রই ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি আমরা উদ্ধার করতে পারব। তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।”

পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, আগ্নেয়াস্ত্রটি স্থানীয় প্রভাবশালী কারও হাতে চলে গিয়েছে। পুলিশের হাতে একটি ভিডিয়ো ফুটেজ এসেছে। সেখানে এক বালককে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রটি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিতে দেখা যাচ্ছে। তারপরের কোনও দৃশ্য পুলিশের হাতে নেই। 

পুলিশ জানায়, ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা বালককে চিহ্নিত করে তার বাড়িও খুঁজে বের করে ভাটপাড়া পুলিশ। ছেলেটি সে সময়ে আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিল বলে জানান আত্মীয়েরা। দিন কয়েক পরে পুলিশ ছেলেটি জিজ্ঞাসাবাদ করে। জেরায় সে জানায়, ঘটনার দিন গোলমাল কিছুটা থিতু হতে সে ঘোষপাড়া রোড লাগোয়া নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। রাস্তায় আগ্নেয়াস্ত্রটি পড়ে থাকতে দেখে। সেটি হাতে তুলে নেয়। কিন্তু এক ব্যক্তি সেখানে হাজির হয়ে সেটি কেড়ে নেন। সন্দেহভাজন কয়েক জনের ছবি দেখানো হয়েছে ছেলেটিকে। তবে সে কাউকে চিনতে পারেনি। তবে পুলিশের অনুমান, ভাটপাড়া এলাকারই এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বা তার ঘনিষ্ঠ কারও কাছে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রটি। 

এক পুলিশ কর্তা জানান, উন্নতমানের আগ্নেয়াস্ত্র রাখার শখ যাঁদের রয়েছে, তাঁদের হাতে এলে সেটি হাতছাড়া করতে চাইবেন না। কিন্তু ওই ব্যক্তির বোঝা উচিত, এই কাজ নেহাতই বেআইনি। এক পুলিশ কর্তার কথায়, ‘‘ওই ব্যক্তির উচিত, অবিলম্বে আগ্নেয়াস্ত্রটি পুলিশকে ফেরত দেওয়া। তা না হলে আমরা যেমন করে হোক সেটি উদ্ধার করবই।”