সিপিএমের পুরনো অনেক কর্মীরাই বসে গিয়েছিলেন। মাঝে মধ্যে তাঁদের দেখা যেত। কিন্তু সিপিএমের ডাকা দু’দিনের ধর্মঘটে এই প্রজন্মের সঙ্গে এ বার তাঁরাও পা মিলিয়েছেন। বন‌্ধ সফল করতে তরুণদের সঙ্গে রাস্তায় নামেন তাঁরা।    

বন্‌ধে তেমন সাড়া না পেলেও এই ঘটনা লোকসভা ভোটের আগে দলতে অক্সিজেন জুগিয়েছে বলেই জেলা সিপিএম নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন। যা আগামী দিনে দলীয় সংগঠনকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে বলেই তাঁদের ধারণা। 

বুধবার সকালে অশোকনগরের রেলস্টেশন থেকে কচুয়া মোড়ের দিকে ও কল্যাণগড় বাজার থেকে  কচুয়া মোড়ের দিকে সিপিএমের একটি মিছিল যায়। মিছিলের সামনে একদল তরুণ ও যুবকেরা লাল পতাকা হাতে করে স্লোগান দিতে দিতে যান। বেশির ভাগই কলেজ পড়ুয়া বা সদ্য কলেজের গণ্ডি পেরিয়েছেন। মঙ্গলবারও অশোকনগর বিধানসভা জুড়ে এমন বেশ কিছু মিছিলেও তরুণ প্রজন্মকে দেখা গিয়েছিল। সঙ্গে দীর্ঘদিনের পুরনো বসে যাওয়া কর্মীরাও হেঁটেছেন।     

সম্প্রতি সিপিএমের মিছিলে এই এলাকার তরুণ প্রজন্মকে হাঁটতে দেখাটা প্রায় বিরল হয়ে উঠেছিল। অশোকনগরে এমন দৃশ্য দেখে রীতিমতো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন অশোকনগরের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক তথা দলের জেলা কমিটির সদস্য সত্যসেবী কর। তিনি বলেন, ‘‘দু’দিনে অশোকনগর শহর ও গ্রামীণ এলাকায় কয়েকশো তরুণ হেঁটেছেন। তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এঁরা সবাই বাম মনোভাবাপন্ন পরিবারের সদস্য। কিন্তু কোনওদিন আমাদের ডাকা মিছিল-মিটিংয়ে তাঁদের দেখা যায়নি। এই প্রথম আমাদের সঙ্গে এলেন।’’ তা ছাড়া শারীরিক বা নানা কারণে বসে যাওয়া কর্মীদের অনেকেই দলীয় কর্মসূচিতে ফিরে এসেছেন। অনেকে শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও মিছিলে হেঁটেছেন বলে তিনি জানান।   

 সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, আর এ সবের কারণেই মঙ্গলবার স্থানীয় চৌরঙ্গি মোড় এলাকায় পথ অবরোধে বাধা দিতে এলে শাসকদলের লোকজনের চোখে চোখ রেখে টক্কর দিতে পেরেছেন বাম নেতৃত্ব।  

 শুধু অশোকনগর নয়, হাবড়া, গাইঘাটা, বনগাঁ, বাগদা, গোপালনগর-সহ জেলার একটা বিস্তীর্ণ এলাকায় বন‌্ধকে কেন্দ্র করে সিপিএমের বহু পুরনো মুখকে রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছে। যা দলীয় নেতৃত্ব বড় প্রাপ্তি বলেই মনে করছেন। বন‌্ধ উপলক্ষে বনগাঁ মহকুমায় সিপিএম দফায় দফায় মিছিল করেছে। যা সম্প্রতি সময়ে দেখা যায়নি। এ দিন সিপিএমের মিছিল দেখে পথচলতি বাম মনোভাবাপন্ন মানুষ থমকে দাঁড়িয়েছেন। বনগাঁয় সাইকেল থেকে নেমেও কয়েকজনকে মিছিল যোগ দিতে দেখা যায়। বাম সমর্থক এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন,  ‘‘আমরা তো এটাই দেখতে চাই। দলের তরফে রাস্তায় নেমে নিয়মিত আন্দোলন বলে আমিও পথে নামব। বন্‌ধের পর যেন সব কিছু শেষ না হয়ে যায়।’’ 

বনগাঁর প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক তথা দলের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ‘‘বনগাঁ মহকুমাতে বসে যাওয়া কর্মীদের বড় অংশকে আমরা পথে নামাতে পেরেছি। পুরনো কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও জনসংযোগ করা হয়েছিল। তার ফল পাওয়া যাচ্ছে।’’