লাঠিহাতে চোখরাঙানি নয়, বরং জোড়হাতে অনুরোধ বাম কর্মী-সমর্থকদের।

মঙ্গলবার সকাল দশটা। যশোর রোড ধরে যাচ্ছে বন্‌ধ সমর্থকদের মিছিল। বাম কর্মীসমর্থকদের হাতে লাল পতাকা। মিছিল থেকে বেরিয়ে কর্মীরা ঢুকে পড়ছেন সড়কের পাশের দোকানগুলিতে। দোকানিদের কাছে গিয়ে হাতজোড় করে তাঁরা অনুরোধ করছেন দোকান বন্ধ রাখার জন্য। তাঁদের হাতে তুলেও দেওয়া হচ্ছিল বন্‌ধ সম্পর্কিত লিফলেট।

বামকর্মী সমর্থকেরা দোকান বন্ধ রাখতে হাতজোড় করে অনুরোধ করছেন, এমন ছবি দেখে দোকানিরা অনেকেই অবাক। এমন অভিজ্ঞতা তাঁদের অতীতে কখনও হয়নি। বাম আমলে বামকর্মীদের কাছ থেকে তাঁরা রুক্ষ তিক্ত ব্যবহারই পেয়েছেন। অনুরোধ শুনে বেশ কিছু দোকানি দোকান বন্ধ করে দিলেন। কেউ কেউ জানান, একটু পরে দোকান বন্ধ করছেন। এক দোকানি বলেন, ‘‘সিপিএম কর্মীরা এসে হাতজোড় করে অনুরোধ করছেন এমন অভিজ্ঞতা আগে কখন হয়নি। ওদের ব্যবহার সম্পূর্ণ পাল্টে গিয়েছে বলে মনে হল।’’ এক দোকানি বলেন, ‘‘ওঁদের অনুরোধ শুনে দোকান বন্ধ করবার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু উপায় ছিল না।’’

মহুয়া রায়চৌধুরী নামে এক বামকর্মী বলেন, ‘‘আমাদের অনুরোধ শুনে অনেক দোকানিই সাড়া দিয়েছেন। অনেকে আবার ভয়ে দোকান বন্ধ করতে পারেননি।’’

বছর আট আগেও বামেদের ডাকা বন্‌ধে বনগাঁর জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়াটা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। দোকানপাট বন্ধ থাকত। যানবাহনহীন শুনশান রাস্তায় স্থানীয়দের ক্রিকেট খেলতেও দেখা যেত। সেসব এখন অতীত। বন্‌ধে তেমন সাড়া এ বারও দেখা যায়নি। বামেদের সাংগঠনিক শক্তি এ অঞ্চলে অনেকটাই কমেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। কিছুটা হলেও বামেরা জনগণ থেকে বিছিন্ন। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে বহু বাম কর্মী-সমর্থক শাসকদলে নাম লিখিয়েছেন। কিছু কর্মী সম্প্রতি বিজেপিতেও চলে গিয়েছেন। এ বারে তারা কোনও পঞ্চায়েতও দখল করতে পারেনি। বরং বিরোধী শক্তি হিসেবে তাদের জায়গায় উঠে এসেছে বিজেপি। মহকুমায় বিজেপি এ বার চারটি পঞ্চায়েত দখল করেছে।

সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ‘‘কিছুটা হলেও আমরা জনগণ থেকে যে বিচ্ছিন্ন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে এ বারের বন্‌ধে আগের চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছেন কর্মীরা। দু’মাস ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ বাড়ানো হয়েছে।’’