ডেঙ্গি প্রতিরোধে সরকার ব্যর্থ—এমনই অভিযোগ তুলে সোমবার বসিরহাটে মশারি, ফেস্টুন, ডেঙ্গি মশার মডেল নিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি ও বামফ্রন্ট। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে অবরোধ শুরু হয়। এর ফলে প্রায় চল্লিশ মিনিট বসিরহাট ও বাদুড়িয়ায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

বিরোধীদের অভিযোগ, এর মধ্যে বসিরহাটে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গিতে। কিন্তু সরকারি ভাবে মাত্র দু’জন ডেঙ্গিতে মারা গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বসিরহাট, বাদুড়িয়া-সহ মহকুমা জুড়ে থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গি। জ্বরে নাজেহাল হচ্ছেন মানুষ। অথচ রাজ্য সরকার তা কোনও ভাবে মেনে নিচ্ছে না। ডেঙ্গিতে মৃত্যু চাপা দেওয়ার জন্য তাঁরা সব রকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ডেঙ্গিতে মারা গেলেও হাসপাতালের চিকিৎসকদের তা লিখতে দেওয়া হচ্ছে না। আসলে রাজ্য সরকার ডেঙ্গি প্রতিরোধ করতে পারছে না বলে দাবি বিজেপি ও বামফ্রন্টের। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই ডেঙ্গি চাপা দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানাতেই এই অবরোধ করা হল বলে জানান বিজেপির জেলা সভাপতি বিকাশ সিংহ।

বিকাশবাবু বলেন, ‘‘ডেঙ্গি বসিরহাটে মহামারির আকার নিয়েছে। অথচ সরকারি ভাবে সে কথা স্বীকার করা হচ্ছে না। সরকারি ব্যর্থতার কারণে মৃতের পরিবারের একজনকে চাকরি নয়তো যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’’ বামফ্রন্ট থেকেও দলীয় পতাকা, ফেস্টুন, মশারি নিয়ে বাদুড়িয়া ও হাসনাবাদ থেকে বসিরহাট পর্যন্ত পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। ১৭ দফা দাবি নিয়ে এই পদযাত্রা বলে জানান বামফ্রন্টের অনিমেষ মুখোপাধ্যায়, শ্রীদীপ রায়চৌধুরী। তাঁরা বলেন, ‘‘ডেঙ্গিতে আক্রান্ত একের পর এক মানুষ মারা যাচ্ছেন। আর রাজ্য সরকার জ্বর বলে কাটিয়ে দিতে চাইছে। যা ঠিক নয়।’’ বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার আধিকারিক চিকিৎসক দেবব্রত মুখোপাধ্যায় জানান, গত দশ দিনে জ্বর নিয়ে ১,৪৭৪ জন মহকুমার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে ৫১৬ জনের। ১৬০টির বেশি শিবির করে জ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসা করা হচ্ছে। ডেঙ্গিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ দিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বিজেপি থেকে একটি মহামিছিল করা হয়। টাউনহল এলাকায় বিজেপি-র কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মহকুমাশাসক নীতেশ ঢালির দফতরের সামনে মশারি টাঙিয়ে শুয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। কতজন মানুষ জ্বরে আক্রান্ত, কতজন ডেঙ্গিতে মারা গিয়েছেন—তার ঠিক তথ্য দিতে হবে। কেন ব্লিচিং-এর পরিবর্তে আটা ছড়ানো হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে সরকারকে। না হলে বড়ো আন্দোলনে নামা হবে বলে  বিজেপি থেকে জানানো হয়েছে।