• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আগরপাড়ায় রেললাইনের ধারে যুবকের দেহ, রহস্য

Boy
অরূপ দে।

রেললাইনের ধার থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের পরে তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে আগরপাড়া এলাকায়। ওই যুবকের নাম অরূপ দে (২১)। তাঁকে কেউ ধাক্কা মেরে রেললাইনে ফেলে দিয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যেখান থেকে অরূপের দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটি নির্জন ও ঝোপ-জঙ্গলে ভরা। তাঁর পরিবারের দাবি, অরূপকে ওখানে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে।

রেলপুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে বেলঘরিয়া ও আগরপাড়া স্টেশনের মাঝে এক নম্বর রেল লাইনের ধার থেকে অরূপের দেহ পাওয়া যায়। রেল পুলিশ সূত্রের খবর, অরূপের পকেটে কিছু কাগজ মিলেছে। যেগুলি প্রণয়ঘটিত ঝামেলার দিকে ইঙ্গিত করছে। শিয়ালদহের রেলপুলিশ সুপার অশেষ বিশ্বাস বলেন, ‘‘কিছু তথ্য পেয়েছি। তা খতিয়ে দেখছি। যুবকের পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে নিশ্চয় তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’’ 

আগরপাড়ার উষুমপুরপল্লির বাসিন্দা অরূপ বেলঘরিয়ার ভৈরব গাঙ্গুলি কলেজের কলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাবা শিবু দে পেশায় আনাজ বিক্রেতা। পরিজনেরা জানান, সংসারের প্রয়োজনে অরূপ এক সময় কেটারিংয়ে পরিবেশনের ছেলে সরবরাহ করতেন। শিবুবাবু বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার রাতে ফোন পেয়ে ছেলে বেরিয়ে যায়। বলেছিল এক বছর আগে পরিবেশনের ছেলে সরবরাহ করার জন্য কারও থেকে আট হাজার টাকা পাবে। সেই টাকা আনতেই বেলঘরিয়ার নন্দননগরে যাচ্ছে।’’ কিন্তু রাত ১০টা বেজে গেলেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় চিন্তায় পরে যান মা ঝুমাদেবী। ছেলের মোবাইলে ফোন করলেও তা বেজে যায়। শেষে এক সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। ঝুমাদেবী বলেন, ‘‘রাতে ছেলে বাড়ি না ফেরায় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করি। সকালে এমন খবর পাবো ভাবিনি।’’

স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পানিহাটির প্রাক্তন কাউন্সিলর হিমাংশু দেব বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়েরা দেখেছিলেন অরূপ এক যুবকের বাইকে চেপে যাচ্ছে। এ থেকে স্পষ্ট ছেলেটিকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’’ 

রেলপুলিশের ফোন পেয়ে এ দিন অরূপের জরুল ও হাতের বালা দেখে দেহ শনাক্ত করেন তাঁর বাবা-মা। ঝুমাদেবী জানান, অরূপের সঙ্গে ঘোলার বাসিন্দা এক তরুণীর সম্পর্ক ছিল। তবে দু’জনের মধ্যে অন্য এক তরুণী মধ্যস্থতা করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে সেই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর বন্ধু পরিচয় দেওয়া এক যুবক ফোন ধরে জানান, তাঁরা কেউ অরূপের খোঁজ জানেন না। অরূপের পরিজনদের ধারণা, প্রণয়ঘটিত কারণেই অরূপ খুন হতে পারেন। যদিও এখনও কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হয়নি।

অরূপের দাদা রবি বলেন, ‘‘ভাই যদি আত্মহত্যাই করত, তা হলে অত দূরে কেন যাবে?’’ তিনি জানান, ময়না-তদন্তের জন্য তাঁরা ব্যস্ত থাকায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সময় পাননি। সব কাজ মিটিয়ে তাঁরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে 

রবি জানান। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন