সদ্যোজাত এক শিশুর মৃত্যুতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভুল  চিকিৎসা, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ উঠল। 

রবিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। মৃত শিশুর দিদিমা স্বপ্না বাড়ুই হাসপাতাল সুপার শঙ্করপ্রসাদ মাহাতোর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সুপার বলেন, ‘‘তদন্ত কমিটি তৈরি হচ্ছে। শিশুটির দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। কোনও গাফিলতি থাকলে পদক্ষেপ করা হবে।’’ প্রাথমিক তদন্তের পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘সেপটিসেমিয়ায়’ ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাইঘাটার রামচন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা অন্তরা বাড়ুই ১ অগস্ট দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই রাতেই অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। শিশুপুত্রের জন্ম দেন তিনি। স্বপ্না  বলেন, ‘‘জন্মের পরে শিশু ও মা সুস্থই ছিল।’’ তবে শিশুটি ঠিকমতো দুধ খাচ্ছিল না বলে পরিবারের দাবি। চিকিৎসকেরা শনিবার এসএনসিইউ-তে স্থানান্তরিত করেন সদ্যোজাতকে। স্বপ্না জানান, শনিবার চিকিৎসক তাঁকে জানিয়েছিলেন চিন্তার কিছু নেই।  হাসপাতালে অপেক্ষা করুন। প্রয়োজনে ফোন করে বা মাইকে ঘোষণা করে তাঁদের ডাকা হবে। কিন্তু কোনও খবর দেওয়া হয়নি। ওই শিশুর দিদা বলেন, ‘‘রাত ১০টা নাগাদ ওয়ার্ডে নাতির সঙ্গে দেখা করতে গেলে কর্মচারী আমাকে তাড়িয়ে দেন।’’ রবিবার বেলা ১টা পর্যন্ত চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির পরিবারের লোকজনকে কোনও খবর দেননি বলে অভিযোগ। স্বপ্না বলেন,  ‘‘দুপুরে চিকিৎসক আমাকে জানান, নাতি মারা গিয়েছে। গিয়ে দেখি, দেহ কালো ও ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে।’’ শিশুটির পরিবারের লোকজনের প্রশ্ন, ‘‘শিশুর শারীরিক অবস্থা যদি সত্যিই খারাপ ছিল, তা তাঁদের কেন জানানো হল না? কেনই বা তাঁদের একবারও শিশুটিকে দেখতে দেওয়া হল না?’’ স্বপ্না বলেন, ‘‘আমরা নিশ্চিত, ভুল চিকিৎসা, অবহেলা ও কর্তব্যে  গাফিলতির কারণেই নাতির মৃত্যু হয়েছে। দোষীদের শাস্তি চাই।’’