• সীমান্ত মৈত্র
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অ্যাম্বুল্যান্স পেতে দেরি, ভোগান্তি করোনা রোগীর

pgn
প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের কোভিড হাসপাতালে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুল্যান্স পেতে ভোগান্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে। অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভা এলাকাতেও ঘটল একই ঘটনা। ২ অগস্ট রাতে সত্তর বছরের বৃদ্ধ করোনা আক্রান্তকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে এমনই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে পরিবারটি।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ অগস্ট ওই বৃদ্ধের লালারস পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। তাতে দেখা যায়, তিনি করোনা পজ়িটিভ। বাড়িতে রেখে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। একদিন বাড়িতে থাকার পরে ২ অগস্ট রাতে বৃদ্ধের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। তারপরেও তাঁর অসুস্থতা বাড়তে থাকে। চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, বৃদ্ধকে দ্রুত কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যেতে।

রাত তখন ১০টা।      বৃদ্ধের পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় পুরসভায়। পুরপ্রশাসক প্রবোধ সরকার বিষয়টি জানতে পারেন। পুরসভার এক কর্মী ফোনে যোগাযোগ করেন পুরসভার এক অ্যাম্বুল্যান্স চালকের সঙ্গে। চালকের স্ত্রী ফোন ধরে জানান, তিনি ঘুমোচ্ছেন। এরপরে পুরপ্রশাসক নিজে কয়েকবার অ্যাম্বুল্যান্স চালককে ফোন করেন। তিনি ফোন ধরেননি বলে অভিযোগ। পরে ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

এরপরে পুরপ্রশাসক অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হাসপাতালে      থাকা ১০২ অ্যাম্বুল্যান্স জোগাড় হয়। সেই অ্যাম্বুল্যান্স চালক যখন বৃদ্ধকে নিয়ে ডানকুনির কোভিড হাসপাতালে রওনা দিলেন, তখন রাত ১২টা পেরিয়ে গিয়েছে।

কেন একজন মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অ্যাম্বুল্যান্স পেতে দু’ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার ৩টি অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। একটি অ্যাম্বুল্যান্স করোনা রোগীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। পুরসভায় ২ জন স্থায়ী অ্যাম্বুল্যান্স চালক আছেন। বাকি কয়েকজন অস্থায়ী। করোনা রোগীদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থায়ী চালকদের কাজে লাগানো হয়। পুরপ্রশাসক বলেন, ‘‘দু’জন স্থায়ী চালকের মধ্যে শারীরিক কারণে একজন পিপিই পরতে পারেন না। অন্যজন রোগী নিয়ে যান।’’ তাঁর কথায়, ‘‘২ অগস্ট রাতে আমারই একটা সময়ে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছিল। আমার ফোন নম্বর ওই অ্যাম্বুল্যান্স চালকের ফোনে সেভ করা ছিল। সে কারণেই ধরেননি। চালককে শোকজ করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স পেতে অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করা হয়েছে।’’

পুরসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা সিপিএমের চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘‘করোনা রোগীদের জন্য পুরসভায় ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা রাখার দাবি জানিয়ে পুরপ্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। তারপরেও সমস্যা মেটেনি।’’ বিজেপির অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আহ্বায়ক স্বপন দে বলেন, ‘‘২ অগস্ট রাতে আমি নিজেও ওই ব্যক্তির জন্য অ্যাম্বুল্যান্স জোগাড় করার চেষ্টা করেছিলাম। আমাদের দাবি, পুরসভাকে অবিলম্বে করোনা আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে  নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স এবং চালকের ব্যবস্থা করতে হবে।’’

বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও করোনা আক্রান্তের জন্য দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স পেতে মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছিল।

(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও।

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন