সরস্বতী পুজোর দিনেই ছেলের মৃত্যু খবর পেলেন সরস্বতী!

ভিনরাজ্যে গিয়ে মৃত্যু হল এক শ্রমিকের। গাইঘাটা থানার ধানকুনি এলাকার বাসিন্দা উত্তম সানার (৩২) দেহ মিলল ওড়িশার রৌরকেল্লা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে রাজগণপুর এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার। যদিও উত্তম গুজরাতে কাজে গিয়েছিলেন। শনিবার সকালে বাড়িতে তাঁর মৃত্যুসংবাদ এসে পৌঁছয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পাঁচটায় শেষবারের মতো ছেলে উত্তমের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল মা সরস্বতীর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশার রাজগণপুর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রেললাইনের পাশ থেকে শুক্রবার রাতে উত্তমের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে রাজগণপুর জিআরপি। গাইঘাটা থানা রাজগণপুর জিআরপির সঙ্গে যোগাযোগ করে। গাইঘাটা থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, জিআরপি তাদের জানিয়েছে, ট্রেনের ধাক্কায় উত্তমের মৃত্যু হয়েছে। জিআরপি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

উত্তমের কাছ থেকে পাওয়া একটি ডায়েরিতে কিছু ফোন নম্বর ছিল। ওই তালিকা থেকে উত্তমের জামাইবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সরস্বতী বলেন, ‘‘ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। ছেলেকে যে ওরা মেরে ফেলবে, তা বৃহস্পতিবারই ও আমাকে ফোনে জানিয়েছিল।’’ 

কী বলেছিলেন উত্তম? 

সরস্বতী জানান, ‘‘ছেলে বলেছিল, ওরা আমাকে বাঁচাতে দেবে না। এটাই হয়তো তোমার সঙ্গে আমার শেষ কথা।’’ ‘ওরা কারা’, সে বিষয়ে অবশ্য সরস্বতী নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। তাঁর কথায়, ‘‘ফোনে ছেলে বলেছিল, বাড়ি ফিরতে পারলে সব জানাবে। তখন বলতে পারেনি কারণ ছেলের আশপাশে তখন কেউ ছিল।’’ মৃতের পরিবারের দাবি, উত্তম বৃহস্পতিবার বলেছিল, তাঁর কিছু হয়ে গেলে পরিবারের লোকজন যেন কমলেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিই সব জানেন।

কে এই কমলেশ?

সরস্বতী বলেন, ‘‘কমলেশের বাড়ি ছত্তীসগঢ়। সে ছেলের সঙ্গে গুজরাতে একসঙ্গে কাজ করত।’’

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তম গুজরাতে সুরাটে রাজমিস্ত্রির সহযোগীর কাজ করতেন। মাসপাঁচেক আগে তিনি বাড়ি থেকে ওখানে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরবেন বলে তিনি গুজরাতে থেকে মঙ্গলবার রওনাও দিয়েছিলেন।

উত্তমের দুই ছোট ছেলেমেয়ে। স্ত্রী রূপা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘‘আমার স্বামী তো কখনও কারও কোনও ক্ষতি করেননি। ওঁর কেন এমন হল?’’ উত্তমের বৌদি সোমা বলেন, ‘‘উত্তম সম্ভবত ওদের গোপন কিছু দেখে ফেলেছিলেন। সে কারণেই ওঁকে মেরে ফেলা হয়েছে।’’

উত্তমের আত্মীয়স্বজন দেহ আনতে ওড়িশায় গিয়েছেন।