কন্যাসন্তান আর চাননি দম্পতি। আর তাই অসুস্থ সদ্যোজাতটির কোনও চিকিৎসাও করানো হয়নি। অভিযোগ, অবহেলায় মারা গিয়েছে শিশুটি। কাউকে কোনও কিছু না জানিয়ে মৃত শিশুটিকে পুঁতেও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এলাকার মানুষ পুলিশকে খবর দেওয়ায় মৃতদেহটি তুলে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। দম্পতি ফেরার। বৃহস্পতিবার জয়নগর থানার দক্ষিণ বারাসতের উত্তর কালিকাপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন পনেরো আগে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন উত্তর কালিকাপুরের বাসিন্দা সঞ্জয় মণ্ডলের স্ত্রী মাধবী। সঞ্জয় ও মাধবীর একটি মেয়ে আছে। আবার মেয়ে হওয়ায় অখুশি ছিলেন দম্পতি। কয়েকদিন আগে সদ্যোজাত ওই কন্যাটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু বাবা-মা তার কোনও চিকিৎসাই করায়নি বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার শিশুটি মারা যায়। পড়শি এক মহিলা বলেন, ‘‘কালই আমরা কয়েকজন ওদের বাড়ি এসেছিলাম। দেখি, মেয়েটা মেঝেতে পড়ে রয়েছে। মুখ থেকে ফেনা বেরোচ্ছে। বাবা-মার কোনও ভ্রুক্ষেপই নেই। আমরা বারবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলি। ওরা বলে, ভগবান রাখলে রাখবে, না রাখলে রাখবে না।’’ আর এক পড়শি বলেন,‘‘মেয়ে হওয়ায় এই ভাবে বাচ্চাটাকে শেষ করে দিল! ওদের গাফিলতিতেই মারা গেল শিশুটা।’’

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এ দিন শিশুটি মারা যাওয়ার পর, সঞ্জয় দেহ নিয়ে এলাকার একটি খালের পাড়ের মাটি খুঁড়ে দেহটি পুঁতে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেন। এর পরেই সস্ত্রীক এলাকা ছেড়ে পালান সঞ্জয়। পুলিশ এসে স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে মাটি খুঁড়ে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠায়। পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।