রেশন দোকানে মালপত্র নিতে এসেছিলেন গ্রামের লোকজন। এসে তাঁরা অবাক। রেশন দোকানের সামনে ঢাক নিয়ে দাঁড়িয়ে এক ঢাকি। চলছে ঢেঁড়া পেটানো।
চলছে ডেঙ্গির সচেতনতার প্রচার। সেখানে রয়েছেন সরকারি আধিকারিকেরা। রয়েছেন রেশন ডিলার। ডিলার সকলকে জানালেন, এখন থেকে রেশনে মালপত্র নিতে হলে বাধ্যতামূলক ভাবে ডেঙ্গি প্রতিরোধে শপথ নিতে হবে প্রত্যেক গ্রাহককে। সরকারি আধিকারিকেরা ডেঙ্গি প্রতিরোধে কী করা উচিত, সে সম্পর্কে গ্রাহকদের পরামর্শ দিলেন। ব্লক প্রশাসনের তরফে রেশন ডিলারদের কাছে আগেই ডেঙ্গি রোধে কী করণীয়, কী করণীয় নয়— তার নির্দেশাবলি ছাপানো কাগজ পাঠানো হয়েছে।
রেশন দোকানে থাকা ওই অঙ্গীকারপত্রে গ্রাহকদের সই করতে হচ্ছে। অঙ্গীকারপত্রের একটি অংশ তাঁরা নিয়ে যাচ্ছেন। অন্যটি থাকছে ডিলারের কাছে। পরে প্রশাসনের লোকজন রেশন দোকান থেকে তা সংগ্রহ করে নিচ্ছেন। অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর ও টিপছাপ— দু’ধরনের ব্যবস্থাই রয়েছে।
গ্রাহকদের কী অঙ্গীকার করতে হচ্ছে?
নির্দেশপত্রের সমস্ত নির্দেশ পড়ে তার সঙ্গে একমত হয়ে রেশন গ্রাহকদের বলতে হচ্ছে, ‘‘আজ আমি শপথ নিচ্ছি, ডেঙ্গি রোধ করতে অঙ্গীকারপত্রে লেখা নিয়মাবলি আমি ও আমার পরিবারের সকলে মেনে চলতে বাধ্য থাকব।’’
দেগঙ্গা ব্লক জুড়ে ডেঙ্গি প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করার এমন পদ্ধতি বেশ সাড়া ফেলছে। অনেকেই জানালেন, ডেঙ্গি রোধ করতে হলে কী করতে হয়, সে সম্পর্কে আগে তাঁদের তেমন ধারণা ছিল না। 
গত বছর দেগঙ্গা ব্লকে জ্বর ও ডেঙ্গির প্রকোপ হয়েছিল। বহু মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। অনেক মানুষ মারাও গিয়েছিলেন। অন্য অনেক কারণের মধ্যে ডেঙ্গি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবও ছিল সেই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
এ বছর তাই আগে ভাগে জেল প্রশাসন থেকে ব্লক প্রশাসনের কাছে নির্দেশ এসেছে, মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। ব্লক তাই নানা কর্মসূচি নিয়েছে। দেগঙ্গার বিডিও অনিন্দ্য ভট্টাচার্য ব্লকের রেশন ডিলারদের সঙ্গে  যোগাযোগ করেন। ডিলারেরাও উৎসাহ দেখান। শুরু হয় রেশন দোকানের মারফত সচেতনতা প্রচার।
ডেঙ্গি প্রতিরোধে রেশন ডিলারদের যুক্ত করার কারণ কী?
অনিন্দ্য বলেন, ‘‘এমন একটি মাধ্যম খুঁজছিলাম, যার মাধ্যমে ব্লকের সমস্ত পরিবারের কাছে পৌঁছনো যায়। 
দেখা গেল, রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে প্রায় সকলেই যুক্ত। ডেঙ্গি সচেতনতা বাড়াতে তাই রেশন দোকানকেই মাধ্যম বেছে নেওয়া হল। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। প্রায় ৭৪ হাজার পরিবারকে আমরা অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করাতে পেরেছি।’’
তবে কাজ এখানেই শেষ নয়, বাড়ি ফিরে নিয়মকানুন পালনের ক্ষেত্রে নিজেদেরও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হবে গ্রাহকদের, মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা।