চারিদিকে লাগানো হয়েছে চোঙা। তারস্বরে বাজছে মাইক। তার বিকট শব্দে পড়াশোনা করতে পারছে না মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। বসিরহাট জুড়ে শব্দ তাণ্ডবে নাজেহাল পড়ুয়ারা। চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকেরাও। অভিযোগ, কিন্তু এ বিষয়ে হেলদোল নেই প্রশাসনের।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক। পড়ুয়ারা জানায়, সরস্বতী পুজো উপলক্ষে চারিদিকে মাইক বাজছে। সেই তাণ্ডবে পড়তে পারছে না তারা।    

হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের মামুদপুর, বসিরহাটের কামারডাঙা, মেরুদন্ডি, হাসনাবাদের বিষপুর, ঘোলাপাড়া, ঘুনি, পূর্বেরঘেরি, শকুন্তলা, মাঝেরপাড়া, হিঙ্গলগঞ্জ, টাকি-সহ বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন এলাকায়  চোঙা লাগানো হয়েছে। তাতে তারস্বরে গান বাজছে। কোথায় আবার ডিজেও বাজানো হচ্ছে।     

মামুদপুর এবং কামারডাঙা, মেরুদন্ডী এলাকার মানুষের কাছে প্রধান উৎসব বলতে সরস্বতী পুজো। এখানে ছোট বড় মিলিয়ে চল্লিশটি পুজো হয়। মামুদপুর তেঁতুলতলা থেকে মান্নাপাড়া পর্যন্ত পাশাপাশি একাধিক পুজো হচ্ছে। এখানকার বহু পড়ুয়া মাধ্যমিক অথবা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তারস্বরে মাইক বাজার কারণে তারা সমস্যায় পড়েছে। 

অভিভাবকেরা জানান, ক্লাব কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। কমলেশ সর্দার, রতন বৈদ্যরা বলেন, ‘‘প্রশাসনের পক্ষে যদি ক্লাবগুলোকে এ বারে মাইক বন্ধ রাখার জন্য বলত, তাহলে ভাল হত। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা হল মাধ্যমিক। ছেলেমেয়েরা শান্তিতে একটু পড়তেও পারছে না।’’এমন চলতে থাকলে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়েও অসুবিধা হবে।

কামারডাঙা, মামুদপুর এবং মেরুদন্ডি গ্রামের বিভিন্ন ক্লাবের তরফে রাস্তার দু’পাশ বাধা হয়েছে একের পর এক চোঙা। মণ্ডপের সামনে বাজছে বড় বড় বক্স। মামুদপুরে রাস্তার দু’পাশে থাকা বাড়িতে অনেক পরীক্ষার্থীরা মাইকের শব্দে শেষ মুহূর্তের পড়াশোনায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন। মামুদপুরের একটি ক্লাবের তরফ থেকে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে দেখে স্থানীয়রা জানান, সেখানে  রাতে নৃত্যানুষ্ঠান  হবে। আবার মেরুদন্ডীর কয়েকটি পুজো উদ্যক্তাদের দাবি, সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত মাইক বন্ধ রাখা হচ্ছে। পরে বাজলেও তা অত্যন্ত আস্তে বাজছে। পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে অনেক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।     

স্থানীয় রমেশ মণ্ডলের কথায়, ‘‘এ বছরে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে সন্ধ্যাকালীন অনুষ্ঠান অন্য বছরের তুলনায় কম রাখা হয়েছে।’’ একটি ক্লাবের পাশে বাড়ি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক রতন মাইতির কথায়, মামুদপুরের সরস্বতী পুজো আমাদের প্রধান উৎসব। বহু মানুষ যাঁরা কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন তাঁরা সকলে এ সময়ে বাড়ি ফেরেন। বাজি ফাটানো হয়। এ বার মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য সরস্বতী পুজোর আনন্দ কমে গিয়েছে। তাঁদের দাবি, আগের তুলনায় মাইকও কম বাজছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শশীবালা মণ্ডল, পারুল বৈদ্য, স্বপন দেবনাথ বলে, ‘‘পুজো উদ্যাক্তাদের কাছে অনুরোধ জোরে মাইক না বাজিয়ে আস্তে বাজানো হোক।’’  

পুলিশ জানিয়েছে, পুজো উদ্যোক্তাদের বলা হয়েছিল যে পরীক্ষার্থীদের কোনও অসুবিধা করে পুজো করা চলবে না। বুধবারের মধ্যে সবাইকে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে।    কথা না শুনলে প্রশাসনের পক্ষে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।