• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বাইক রেস প্রাণ নিল বৃদ্ধের

kalipada
কালীপদ তালুকদার। —নিজস্ব চিত্র

বেপরোয়া গতিতে চার তরুণ বাইক রেস করছিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাইক এক বৃদ্ধকে ধাক্কা মারে। কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের। 

সোমবার রাত ৮টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়া থানার কুমড়া হাসপাতাল মাঠ এলাকার হাবড়া-মগড়া সড়কে। রাস্তাটি গৌরবঙ্গ রোড নামে পরিচিত। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম কালীপদ তালুকদার (৬০)। তাঁকে ধাক্কা মারার অভিযোগে পুলিশ বছর আঠারোর শাহনাজ হোসেন নামে এক তরুণকে   গ্রেফতার করেছে। তাঁর বাড়ি কুমড়া পাঁচঘোরিয়া গ্রামে। বাইকটি তাঁরই। তিনিই চালাচ্ছিলেন। ধৃতের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ধৃতকে মঙ্গলবার বারাসত জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীপদ সোমবার রাতে বাড়ির কাছে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বিভিন্ন হাটে আনাজ বিক্রি করতেন তিনি। স্ত্রী শর্মিলা পরিচারিকার কাজ করেন। কালীপদর ছেলে পরিতোষ বলেন,  ‘‘বাবাকে রাস্তার পাশে দাঁড়াতে বারণ করেছিলাম।  সব সময়েই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি, বাইক যাতায়াত করে এখান দিয়ে।’’ শর্মিলা বলেন,  ‘‘পরিবারটা ভেসে গেল। আমরা চাই, পুলিশ অবিলম্বে সড়ক দিয়ে বাইক রেস বন্ধ করুক।’’ 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরে একটি বাইক পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাইকে দু’জন যুবক ছিল। তাঁরা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। একজন পালিয়ে যান। বাইক চালক যুবকের আঘাত বেশি হওয়ায় তিনি পালাতে পারেননি। জখম যুবকের মাথায় হেলমেট ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, কালীপদ ও শাহনাজকে পুলিশ হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কালীপদকে বারাসত জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন চিকিৎসকেরা। পথেই তিনি মারা যান।  মঙ্গলবার সকালে পুলিশ শাহনাজকে গ্রেফতার করে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাগরিকা বিশ্বাস বলেন, ‘‘সড়কে প্রায়ই বাইক রেস করে যুবকেরা। মাথায় কোনও হেলমেটও থাকে না। আমাদের পথ চলতে ভয় লাগে। পুলিশের উচিত বাইক রেস বন্ধ করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা।’’ বাসিন্দারা জানালেন, স্থানীয় নাংলা বিল এলাকায় বিকেলে প্রচুর তরুণ-তরুণী ভিড় করেন। তাঁরাই নিজেদের মধ্যে রেস করেন।

হাবড়া-মগড়া সড়কে পথ দুর্ঘটনায় প্রায়ই ঘটে বলে বাসিন্দারা জানালেন। প্রাণ যায় মানুষের। বেপরোয়া গতিতে চলা ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোকানে ধাক্কা মারে। আবার কখনও অটো উল্টেও মৃত্যু হচ্ছে। পুলিশের তরফে যান নিয়ন্ত্রণের জন্য সড়কে হাম্প বসানো হয়েছিল। কিছু দিন যেতে না যেতেই সব ভেঙে গিয়েছে। ফলে যান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সড়কে গার্ডরেল দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘ওই সড়কে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গতিও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন