বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সামনেই দলের এক মহিলা কর্মী-সহ কয়েক জনকে চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে পেটানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির কিছু মহিলা কর্মীদের বিরুদ্ধে।

সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাটে। এ দিন বসিরহাটের চৌমাথায় একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে দলের সদস্য সংগ্রহ নিয়ে বৈঠক হয়। হাজির ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ছাড়াও জেলা সভাপতি গণেশ ঘোষ-সহ নেতারা। টাকি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা কংগ্রেস নেতা অরুণ ঘোষ-সহ কয়েক জন বিজেপিতে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে বিকেলের দিকে দিলীপ গাড়িতে উঠতে যাবেন, সে সময়ে ভিড় ঠেলে তাঁর কাছে এগোনোর চেষ্টা করেন বাসন্তী ঘোষ নামে বিজেপির মহিলা মোর্চার এক কর্মী। অন্য কয়েক জন মহিলা তাঁকে বাধা দেন। অভিযোগ, ঘুষি বাগিয়ে তাঁদের দিকে তেড়ে যান বাসন্তী। কয়েক জন মহিলা তাঁর উপরে পাল্টা চড়াও হন। বাসন্তীকে চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে মারা হয় বলে অভিযোগ। আরও কয়েক জন মার খান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে দেখে দলের রাজ্য সভাপতিকে নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেয়। এ দিন বৈঠকে ঢুকতে গেলেও বাসন্তীকে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। কিন্তু তাঁকে নিয়ে গোলমাল কিসের?

বিজেপির একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু দিন আগে হাড়োয়ার বিজেপি নেতা রাজেন্দ্র সাহা ওরফে সমু দলের এক মহিলা কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হন। বাসন্তী ওই তরুণীর পক্ষে দাঁড়িয়ে সমুর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। 

তা নিয়ে দলের একাংশ বাসন্তীর উপরে ক্ষুব্ধ ছিলেন। ইদানীং তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা বলেও কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল দলে অন্দরে। এ দিনের ঘটনা সেই রাগেরই বহিঃপ্রকাশ বলে বিজেপির একটি সূত্রের দাবি।

এ বিষয়ে দলের বসিরহাট জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল রায় বলেন, ‘‘বাসন্তী এক সময়ে বিজেপি করলেও বেশ কিছু দিন হল তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন। তৃণমূলের ইন্ধনেই সভা ভন্ডুল করে বিজেপির বদনাম করতে গন্ডগোল পাকিয়েছেন।’’ 

বাসন্তী অবশ্য বলেন, ‘‘আমি বিজেপিতে ছিলাম। এখনও আছি। দলের একটা অংশ পার্টিটাকে নষ্ট করতে চাইছে। সে কথা রাজ্য সভাপতিকে বলতে গেলে আমাকে সকলের সামনে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়। পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি পুলিশকেও জানিয়েছি।’’