সন্দেশখালিতে ভিলেজ পুলিশ খুনের আট দিনের মাথা নমুনা সংগ্রহ করল ফরেন্সিক দল। 

গত শুক্রবার রাতে বৌঠাকুরানি গ্রামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দু’জনকে কোপায় কেদার বাহিনী। পরে তারা খুলনা রজনী চৌকিদার খেয়াঘাটের পাশে পোলপাড়ায় নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে এসে মদ খায়, জুয়ার আসর বসায়। গোলমালের খবর পেয়ে সন্দেশখালি থানার এক অফিসার কয়েক জন সিভিক ভলান্টিয়ার এবং ভিলেজ পুলিশ নিয়ে চারটি মোটর বাইক নিয়ে পোলপাড়ায় যাওয়ামাত্র কেদার ও তার বাহিনী গুলি ছুড়তে শুরু করে। আহত হন তিন জন। তাঁদের ভর্তি করা হয় হাসপাতাল, নার্সিংহোমে। শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার একটি নার্সিংহোমে মারা যান ভিলেজ পুলিশ বিশ্বজিৎ মাইতি। 

ঘটনার তদন্তে নেমে সন্দেশখালি থানার পুলিশ মূল অভিযুক্ত কেদার সর্দার এবং তার সঙ্গী-সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। খুলনার পোলপাড়ায় যেখানে দুষ্কৃতীরা পুলিশের উপরে গুলি চালিয়েছিল, এ দিন বেলা ১১টা নাগাদ সেখানে আসে ফরেন্সিক দল। পুলিশ জানায়, চার জনের দলটি কলকাতা থেকে ধামাখালি হয়ে সন্দেশখালি থানায় আসে। সেখানে মামলার তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে কথা বলে। পরে হাসনাবাদের সিআই অরূপ সরকার এবং সন্দেশখালি থানার ওসিকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।  

খেয়াঘাটের পাশে যেখানে গত শুক্রবার রাতে দুষ্কৃতীরা পুলিশের উপরে গুলি চালিয়ে মোটর বাইক পুড়িয়ে দিয়েছিল, সেখানকার একাধিক ছবি তোলেন তদন্তকারীরা। ফিতে দিয়ে মাপজোক করা হয়। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পোড়া গাড়ির ছাই এবং গুলির খোলের অংশ উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। আশপাশের গাছের পাতায় লেগে থাকা রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। গুলি লাগার পরে আহত পুলিশরা কোন জায়গায় পড়ে গিয়েছিলেন, তা-ও দেখা হয়।  

সন্দেশখালিত ঘণ্টা দেড়েক থাকার পরে দলটি কলকাতার দিকে রওনা দেয়। তবে অসংরক্ষিত ভাবে ফেলে রাখা ঘটনাস্থল থেকে কতখানি প্রয়োজনীয় নমুনা পেল ফরেন্সিক দল, তা নিয়ে ধন্ধে স্থানীয় মানুষ জন। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞ দলের কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।