বুধবার রাজ্য জুড়ে কন্যাশ্রী দিবস পালন করা হচ্ছে। তার আগে, মঙ্গলবার রাতে চোদ্দো বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হল হাবড়ার বালুইগাছি পালপাড়া এলাকায়। যদিও পুলিশ-প্রশাসনের তৎপরতায় শেষমেশ বন্ধ করা গিয়েছে বিয়ে। এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতেরা হলেন পাত্র,  তাঁর বাবা ও দাদা। নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে, অপহরণ ও আটকে রাখার মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সব ক’টিই জামিন অযোগ্য ধারা।

ধৃতদের বুধবার বারাসত জেলা আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক সকলকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়েটির বাড়ি দত্তপুকুরে। মাস দেড়েক আগে বালুইগাছি এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দুই পরিবার বিয়ের ঠিক করে ফেলেন। পুলিশের দাবি, দু’টি পরিবাই জানত, আঠারো বছরের নীচে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যায় না। গোপনে মন্দিরে বিয়ের ব্যবস্থা হয়। পরে মেয়েটিকে যুবক নিজেদের বাড়িতে আনেন। বুধবার সেখানেই লোকজনকে খাওয়ানোর তোড়জোড় চলছিল। সে খবর পৌঁছয় হাবড়া ১ বিডিও শুভ্র নন্দীর কাছে। তিনি বিষয়টি আইসি গৌতম মিত্রকে জানান। বিডিও-আইসি রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ হানা দেন। মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় তিন জনকে।

মেয়েটির পরিবার জানিয়েছে, চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে সে। তারপরে বাবার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় পড়ানো যায়নি। মেয়েটি বলে, ‘‘পড়াশোনার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু একবার যখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে, আর হয় তো পারব না।’’ মেয়ের বাবা বলেন, ‘‘ভাল পাত্র পাওয়ায় বিয়ে।’’ পাত্রের পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, পুলিশ জানতে পারবে, সেটা আন্দাজ করতে পারেননি তাঁরা। পুলিশ মেয়েটিকে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দিয়েছে।