ডায়মন্ড হারবারে সংশোধানাগারে শৌচাগার থেকে গলায় কাপড়ের ফাঁস জড়ানো দেহ উদ্ধার হল এক বিচারধীন বন্দির। তাঁর নাম গোপাল সর্দার (৪০)। বাড়ি রায়দিঘির নারায়ণপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, কী ভাবে মৃত্যু হল, তা ময়নাতদন্তের রির্পোট এলে জানা যাবে। আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। 

সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ডায়মন্ড হারবারের মহকুমাশাসক তথা সংশোধাগারের সুপার দেবোময় চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বন্দি মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হচ্ছে। ম্যাজিট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করা হবে। তার ভিডিয়ো রেকর্ডিও থাকবে।’’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের ৭ অগস্ট রায়দিঘির নারায়ণপুর গ্রামের শ্মশানের অদূরে খালপাড়ের গুদাম ঘরের মধ্যে জনা কয়েক যুবক ঢুকেছিলেন। তাঁরা দেখতে পান, মাটি চাপা অবস্থায় একটি দেহ। মাথার চুল বেরিয়ে রয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। মাটি খুঁড়ে এক মহিলার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। ওই গ্রামেরই গোপাল ও তাঁর স্ত্রী সোমা সর্দার দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। মৃতদেহের পরনের পোশাক দেখে সোমার পরিবারের লোকজন দেহ সনাক্ত করেন। খোঁজ শুরু হয় গোপালের। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকার বকুলতলা গ্রামের সোমার সঙ্গে দিনমজুর গোপালের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পরে সোমা জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর নারায়ণপুর গ্রামের এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহিভূর্ত সম্পর্ক রয়েছে। তা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হত। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নিখোঁজ হন সোমা। থানায় ডায়েরি করেন সোমার দাদা দিলীপ। পুলিশ হরিয়ানায় গোপালের সন্ধান পায়। জানা যায়, প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে সে। গ্রেফতার করা হয় গোপাল ও তাঁর প্রেমিকা সন্ধ্যা নাইয়াকে। পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃতেরা জানায়, সোমাকে শাবল দিয়ে মাথায় মেরে খুন করে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে। সন্ধ্যা পরে জামিন পেয়ে যায়। জেলে ছিল গোপাল।