বিজেপি নেত্রীর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে দলেরই এক নেতাকে গ্রেফতার করল হাড়োয়া থানার পুলিশ। গোপালপুরের বাসিন্দা অভিযুক্ত বিজেপি নেতার নাম রাজেন্দ্র সাহা ওরফে সমু। তিনি বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক। বৃহস্পতিবার ভোরে তারকেশ্বরে একটি বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁকে ধরে। শুক্রবার বসিরহাট আদালতে তোলা হলে বিচারক চোদ্দো দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। 

পুলিশ জানায়, ওই তরুণীর বাড়িতে যাতায়াত ছিল রাজেন্দ্রর। তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে ভালবাসার প্রস্তাব দিয়ে প্রায়ই ফোন করতেন রাজেন্দ্র। ২৫ ফেব্রুয়ারি বারাসতে দলের সভার নাম করে তরুণীকে নিয়ে যান। বারাসতের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে জোর করে সিঁদুর পরিয়ে রাজেন্দ্র তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। জানাজানি হলে খুনের হুমকিও দেন।

পুলিশের কাছে তরুণী দাবি করেছেন, ওই ঘটনার পরে তাঁকে বিয়ে করতেও অস্বীকার করেন রাজেন্দ্র। শনিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তরুণী। বিভিন্ন সময়ে রাজেন্দ্রকে দেশের প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার প্রার্থী সায়ন্তন বসু, দলের নেতা মুকুল রায়ের পাশে দেখা গিয়েছিল। প্রভাবশালী এই নেতাকে গ্রেফতারের দাবিতে পথে নামে তৃণমূল। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পরিকল্পিত এবং ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন রাজেন্দ্র। তাঁর কথায়, ‘‘হাড়োয়ার তৃণমূল নেতাদের কাটমানির প্রতিবাদ করায় আমাকে চক্রান্তের শিকার হতে হল।’’

দলের নেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি গণেশ ঘোষও। তিনি বলেন, ‘‘দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’’  অন্য দিকে, হাড়োয়ার তৃণমূল নেতা সঞ্জু বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘‘অপরাধ ঢাকতে অন্যদের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাইছে বিজেপি।’’