বেতন বাড়ানোর দাবিতে ৩ অগস্ট থেকে কাকদ্বীপে ১৭টি বরফকলে শুরু হয়েছিল শ্রমিক ধর্মঘট। লাগাতার এই ধর্মঘটের জেরে নাভিশ্বাস উঠছে মৎস্যজীবীদের।

ধর্মঘটের জেরে বন্ধ বরফ তৈরি। পর্যাপ্ত বরফ না থাকার জন্য বিপাকে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা। সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সমুদ্র থেকে মাছ এনে তা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান মৎস্যজীবীরা।

সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক সংগঠনের নেতা সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘‘অনেক বেশি টাকা খরচা করে ডায়মন্ড হারবার থেকে গাড়িতে বরফ আনতে হচ্ছে। তাতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। দেড় ঘণ্টার রাস্তায় বরফ অনেকটা গলেও যাচ্ছে।’’ মাছ অনেক কম দামে ছেড়ে দিতে হচ্ছে পাইকারি বাজারে। সমুদ্রে ঠিক সময়ে ট্রলার ছাড়াও যাচ্ছে না। ট্রলারে বরফ নিয়ে সমুদ্রে যাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি সমুদ্র থেকে ফিরে মাছ পাইকারি বাজারে আসার আগেও বরফ দিয়েই আনা হয় বলে তিনি জানান।

মৎস্যজীবীদের দাবি, কাকদ্বীপ থেকে নামখানা কাছে। ডায়মন্ড হারবার দূরে। কিন্তু নামখানায় বেশি বরফকল নেই। এখানে ২টি বড় আর নারায়ণপুরে ৯টি ছোট বরফ তৈরির কারখানায় আছে। নামখানা, পাথরপ্রতিমা, সীতারামপুর-সহ বিভিন্ন এলাকার ট্রলারগুলি নামখানা থেকেই বরফ তোলে। সে কারণে কাকদ্বীপের মৎস্যজীবীদের চাহিদা এই বরফকলগুলি মেটাতে পারছে না।  

বন্ধ রয়েছে বরফকল। 

স্বাভাবিক ভাবেই বেশ চাপেই রয়েছেন মৎস্যজীবীরা। বরফে টান পড়ার জন্য কাকদ্বীপ মৎস্য বন্দরে নোঙর করেছে প্রায় ২০০টি ট্রলার।  পূর্ব গঙ্গাধরপুরের মৎস্যজীবী সোনারঞ্জন দাস বলেন, ‘‘এখন মাছের মরশুম। এই সময় যদি মাছ না ধরতে পারি সংসার চালাব কী ভাবে? আর ঋণই বা শোধ করব কী ভাবে?’’ বন্দরে ট্রলারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কর্মহীন, আয়হীন হয়ে বসে রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মৎস্যজীবী। এমনিতেই বর্ষার মরশুমে গভীর সমুদ্রে আবহাওয়া খারাপ থাকায় মাছ ধরতে যাওয়া একটু কমে গিয়েছে। তার উপর যে ভাবে বরফের সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাতে বাজারেও ভাল মানের মাছ আসছে না। পশ্চিমবঙ্গ ইউনাইটেড ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের কাকদ্বীপের নেতা বিজন মাইতির কথায়, ‘‘অবিলম্বে এই ধর্মঘট বন্ধ হোক। আলোচনার মাধ্যমে সবটা মিটিয়ে নেওয়াই ভাল। বরফের উৎপাদন স্বাভাবিক না হলে  ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাদের।’’

কবে মিটবে বরফকলের এই ধর্মঘট?

আইএনটিটিউসি অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, বেতন কত বাড়ানো হবে, তা নিয়ে মালিক পক্ষকে আলোচনায় বসতে হবে। বরফকল মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হঠাৎ করে ধর্মঘট শুরু করে  এ ভাবে মৎস্যজীবীদের বিপদে ফেলার কোনও মানে নেই। শ্রমিকেরা স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ ফেরালে  আলোচনায় বসতে রাজি মালিকপক্ষও। সোমবার কাকদ্বীপ-সহ শ্রমকমিশনারের দফতরে আরও এক দফা আলোচনায় বসার কথা দু’পক্ষের। সেখানে সমস্যার সমাধান হয় কিনা সেটাই এখন দেখার। 

ছবি: শান্তশ্রী মজুমদার।