ট্রেনের ধাক্কায় জখম এক যুবককে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়া শ্মশান এলাকায় বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখায়। জিআরপি জানিয়েছে, জখম যুবকের নাম জয়দেব বিশ্বাস। বছর আটত্রিশের জয়দেবের বাড়ি অশোকনগর থানার ৩ নম্বর  জনকল্যাণপল্লি এলাকায়। তিনি বেসরকারি একটি  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

রবিবার রাতে এই হাবড়াতেই এক অমানবিক ঘটনা ঘটেছিল। সে দিন ট্রেনের ধাক্কায় জখম তরুণী জয়িতা কর রেললাইনের পাশে পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। আশেপাশে লোকজন ভিড় করলেও কেউ তাঁকে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেননি। পরে রেলপুলিশ উদ্ধার করলেও বাঁচানো যায়নি বছর আঠারোর তরুণীকে।

হাবড়া শ্মশান এলাকার লোকজন অবশ্য সাহসটুকু দেখিয়েছেন। তাঁরা দ্রুত জয়দেবকে উদ্ধার করে ভ্যানে করে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁরাই ভ্যান ভাড়া দিয়েছেন।

উদ্ধারকারীদের মধ্যে ছিলেন, দীপঙ্কর গায়েন, রতন পাল। তাঁরা জানিয়েছেন, চোখের সামনে জখম একজনকে দেখে জীবন বাঁচানোটাই প্রধান কাজ বলে মনে হয়েছিল। এ সব ক্ষেত্রে পুলিশি ঝামেলা হয় না বলেও শুনেছেন তাঁরা। সে রকম কোনও সমস্যায় তাঁদেরও পড়তে হয়নি। ওই এলকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন,  কিছু দিন আগেও এক মহিলাকে তাঁরা জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

জয়দেবের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ডেকরেটরের ব্যবসা করেন। মঙ্গলবার সকালে বাইক নিয়ে হাবড়া শ্মশান এলাকায় কাজে এসেছিলেন। কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে জিআরপি।

জয়দেবের ভাইপো সুশান্ত দাস বলেন, ‘‘এলাকার মানুষের তৎপরতায় কাকার প্রাণ বাঁচল। ওঁদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। সকলেরই উচিত, জখম মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া। আমরাও প্রয়োজনে একই কাজ করব।’’ স্থানীয় মানুষজনের প্রশংসা করেছেন জিআরপি কর্তারাও।