• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

খাঁড়ার নীচে কামারহাটির পাঁচ পারিষদ

Kamarhati Municipality

তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরে দলীয় কোন্দল ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতি মুহূর্তেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তা পৌঁছচ্ছে। কয়েক দিন আগে দলের কোর কমিটির বৈঠকে তা নিয়ে কড়া মনোভাবও জানিয়ে দিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দলের ক্ষেত মজুর সংগঠনের মঞ্চ থেকে একই বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক করেছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি সুব্রত বক্সী।

আর এই সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রবিবার রাতেই কামারহাটির পাঁচ চেয়ারম্যান পারিষদকে তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন পুর চেয়ারম্যান। দলের একাংশের মতে দলীয় নেতৃত্বের সতর্কবার্তা বোধ হয় প্রথম প্রয়োগ হল উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটিতে। আর এখান থেকেই দলের সব স্তরে বুঝিয়ে দেওয়া হল কড়া মনোভাব নিতে আর পিছপা হবেন না দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

পুরসভা সূত্রের খবর, রবিবার রাতে কামারহাটির চেয়ারম্যান গোপাল সাহা ফোন করে পাঁচ চেয়ারম্যান পারিষদ—কালামুদ্দিন আনসারি, নবীন ঘোষাল, বিশ্বজিৎ সাহা, বিমল সাহা, সমীরণ দাসকে ইস্তফা দেওয়ার বিষয়ে জানিয়ে দেন। যদিও ঠিক কি কারণে তড়িঘড়ি এমন নির্দেশ জারি করা হল তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি ওই পাঁচ জনের কেউই। তবে গোপালবাবু বলেন, ‘‘পুর প্রধান হিসেবে আমি দলের নির্দেশ সকলের কাছে পৌঁছে দিয়েছি মাত্র।’’

দলের একাংশের কথায়, কামারহাটির চেয়ারম্যান পারিষদ পুনর্গঠন করার জন্যই এমন নির্দেশ। বিষয়টা ‘মোলায়েম’ করে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ব্যাখ্যা দেন, ‘‘এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে চেয়ারম্যান পারিষদদের দফতর পরিবর্তন করতেই পারেন পুর কর্তৃপক্ষ। কামারহাটির চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন বিধায়ক মদন মিত্র সেটাই আমাকে জানিয়েছিলেন।’’ তবে মন্ত্রীর আরও দাবি, চেয়ারম্যান পারিষদ থেকে কাউকে বাদ দিতে গেলে রাজ্য কমিটির অনুমোদন লাগে। তবে কামারহাটির ক্ষেত্রে তিনি এখনও ইস্তফা দেওয়ার কোনও নির্দেশ দেননি। কামারহাটির চেয়ারম্যানকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই জেলাতেই বিভিন্ন স্তরের নেতা-নেত্রী এবং জনৈক ‘তোলা-দেবী’র নামে বিভিন্ন রকমের দুর্নীতির ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। তাঁদের ক্ষেত্রে দল কী ভাবছে? জ্যোতিপ্রিয়বাবু বলেন, ‘‘এই জেলা থেকে কারও সম্পর্কে এমন কোনও অভিযোগ এখনও পাইনি। তবে পুর চেয়ারম্যানেরা আমাকে কোনও অভিযোগ জানালে সেটা সিদ্ধান্তের জন্য সুব্রত বক্সীর কাছে পাঠিয়ে দেব।’’

রাজ্যের মন্ত্রী থেকে পুরসভার মেয়র পারিষদ কিংবা চেয়ারম্যান পারিষদের দফতর পরিবর্তন করা হলেও সাধারণত তাঁদের ইস্তফা দিতে হয় না। তা হলে কামারহাটির ক্ষেত্রে কেন? এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘‘হতে পারে কামারহাটি দিয়েই শুদ্ধিকরণের কাজ শুরু হল। যা থেকে অন্যরাও সতর্ক হবেন।’’ তবে কামারহাটির চেয়ারম্যান পারিষদ নবীন ঘোষাল শুধু বলেন, ‘‘দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’’ বিমল সাহার কথায়, ‘‘নিয়মিত স্বাস্থ্য দফতরে গিয়ে মানুষকে পরিষেবা দিই।
কেউ কোনও অভিযোগ করতে পারবেন না। তবে দল যা বলবে তাই মেনে চলব।’’

দলীয় নেতৃত্বের একাংশ বলছেন, কামারহাটি পুর বোর্ডের মাত্র মাত্র দু’বছর হয়েছে। এর মধ্যেই সমস্ত জন প্রতিনিধিদের উপরে গোপন নজরদারি চালিয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। আর তাতেই উঠে এসেছে বিভিন্ন অভিযোগ। যেমন, পদে থাকা সত্ত্বেও অনেকেই গয়ংগচ্ছ মনোভাব নিয়ে চলছেন। তাতে নাগরিক পরিষেবা বঞ্চিত হচ্ছে। উল্টে জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর থেকেই কারও কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, ‘‘দলই মন্ত্রী, চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান পারিষদ ঠিক করে। তাই দল মনে করেছে বলেই এমন সিদ্ধান্ত।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন