আজ তো তৃণমূলেই আছি
তিনি সুনীল সিংহ। নোয়াপাড়ার বিধায়ক এবং গারুলিয়ার পুরপ্রধান। তিনি লোকসভায় ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী এবং তৃণমূলের টিকিটে জেতা ভাটপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অর্জুন সিংহের নিকটাত্মীয়।
Sunil

সুনীল সিংহ

আজ হয়তো নয়। কিন্তু কাল?

এই প্রশ্ন উঠলেই মুচকি হেসে তিনি বলছেন, ‘‘কাল কিসনে দেখা হ্যায়?’’

তিনি সুনীল সিংহ। নোয়াপাড়ার বিধায়ক এবং গারুলিয়ার পুরপ্রধান। তিনি লোকসভায় ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী এবং তৃণমূলের টিকিটে জেতা ভাটপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অর্জুন সিংহের নিকটাত্মীয়। গত কয়েকদিন ধরেই রটছে, সুনীল বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু, সুনীল নিজে বলছিলেন, ‘‘আমি তৃণমূলে ছিলাম-আছি-থাকব।’’ 

 শনিবার দুপুরে রটে যায়, তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু, রবিবারও সুনীল বললেন, ‘‘আমি তো তৃণমূলেই আছি।’’ তা হলে আপনি বিজেপিতে যাচ্ছেন না? সুনীল বললেন, ‘‘দেখুন, আজ আমি বিজেপিতে যাচ্ছি না। এটা নিশ্চিত।’’ তা হলে কি কাল অন্য রকম কিছু দেখা যাবে? তখনই সুনীলের রহস্যময় উত্তর— কাল কে দেখেছে?

তবে বিজেপি সূত্রের খবর সুনীলের দলবদল শুধু সময়ের অপেক্ষা। দু’-এক দিনের মধ্যেই তাঁকে পদ্ম শিবিরে দেখা যাবে। সেখানেই প্রশ্ন উঠছে, দু’দিন পরে হলে, দু’দিন আগে নয় কেন? তৃণমূলের নেতাদের একাংশের ধারণা, অর্জুনের ইশারা না মেলা পর্যন্ত সুনীলকে তৃণমূলেই থাকতে হবে। সুনীল তৃণমূলে থাকলে অর্জুনের কিছু সুবিধা হবে বলে ধারণা তৃণমূলের।

এরই মধ্যে ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘোষণা হওয়ায় জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি, দুই শিবিরেই। কে প্রার্থী হবে, তা নিয়ে জোর আলোচনা দুই শিবিরেই শুরু হয়েছে। বিজেপি শিবিরে এমন আলোচনা শোনা যাচ্ছে যে, সুনীল নোয়াপাড়ার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলে তিনিই হতে পারেন ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী। 

আবার অর্জুন সিংহের ভাইপো সৌরভ সিংহের নামও শোনা যাচ্ছে ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে। তবে একই সঙ্গে ভাটপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অর্জুন নিজেও দাঁড়াতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। অর্জুন লোকসভায় প্রার্থী। প্রশ্ন উঠছে, সেই ভোটের ফল প্রকাশের আগে তিনি কি বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন?

সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত জেলা প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। জেলা প্রশাসনের কর্তারা বলছেন, ‘‘লোকসভা ভোটের প্রার্থী বিধানসভার উপনির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না, এমন কোনও নিয়ম বা নির্দেশ আমাদের হাতে নেই।’’ একই কথা বলছেন নির্বাচন কমিশনের কর্তারা। তাঁদেরও বক্তব্য, ‘‘নথিপত্র ঘেঁটে দেখতে হবে, এমন কোনও নির্দেশ আছে কিনা।’’ একই সঙ্গে তাঁদের সংযোজন, এক প্রার্থী যদি একই ভোটের দু’টি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, তা হলে এ ক্ষেত্রেও তেমন বাধা থাকার কথা নয়।

ভাটপাড়া বিধানসভা আসন নিয়ে জোর তৎপরতা চলছে তৃণমূলেও। সেখানে অনেক নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। সবই নামই স্থানীয়। ভাটপাড়া পুরসভার কাউন্সিলর ধরমপাল গুপ্ত, মনোজ গুহ রয়েছেন আলোচনায়। আলোচনায় রয়েছে উপ-পুরপ্রধান সোমনাথ তালুকদারের নামও। অর্জুনের এক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী জিতেন্দ্র সাউয়ের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে নেতারা বলছেন, প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত