আজ বনগাঁয় আসছেন যোগী আদিত্যনাথ
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,  আজ সকালে তাঁর হেলিকপ্টারে বনগাঁর কিসান মান্ডির স্থায়ী হেলিপ্যাডে নামার কথা। তারপর সড়ক পথে যশোর রোড, রামনগর রোড হয়ে পৌঁছবেন সভাস্থলে।
BJP

প্রস্তুতি: বনগাঁয়। নিজস্ব চিত্র

লোকসভা ভোটের প্রচারে আজ, সোমবার বনগাঁয় সভা করতে আসছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বনগাঁ শহরের আরএস মাঠে তাঁর সভা করার কথা। 

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,  আজ সকালে তাঁর হেলিকপ্টারে বনগাঁর কিসান মান্ডির স্থায়ী হেলিপ্যাডে নামার কথা। তারপর সড়ক পথে যশোর রোড, রামনগর রোড হয়ে পৌঁছবেন সভাস্থলে। তাঁর নিরাপত্তার জন্য রবিবারই বনগাঁয় এসেছেন উত্তরপ্রদেশের পুলিশের একজন ডিআইজি। রবিবার আরএস মাঠে গিয়ে তিনি মঞ্চ তৈরির কাজও দেখেছেন। নিরাপত্তা কর্মীরা গোটা এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন। বিজেপি নেতৃত্ব সেখানে ভিড় করেছেন। 

আদিত্যনাথের সভা ঘিরে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উৎসাহী। দলের তরফে গাড়িতে মাইকে সভার কথা প্রচার করা হচ্ছে। কেন বনগাঁয় আদিত্যনাথকে দিয়ে জনসভা করানোর পরিকল্পনা নিলেন বিজেপি নেতৃত্ব? 

বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্যে যে আসনগুলো বিজেপি পেতে পারে তার মধ্যে বনগাঁ লোকসভা আসন রয়েছে। ফলে এই আসনের প্রচারের জন্য  বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। বিজেপির এক জেলা নেতার কথায়,  ‘‘প্রধানমন্ত্রীর পরে যোগী আদিত্যনাথের কথা এখানকার মানুষ সব থেকে বেশি শুনতে চান। কর্মী সমর্থকদের মধ্যে আদিত্যনাথের চাহিদা রয়েছে। সে কারণেই আদিত্যনাথকে আনা হচ্ছে।’’ তা ছাড়া সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গাইঘাটার ঠাকুরনগরে এসে মতুয়া ধর্মসভায় সভা করে গিয়েছেন। ওই সভায় মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিল। মতুয়াদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ভালই ছিল।          বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, তাঁরা মনে করছেন, আদিত্যনাথকে দিয়ে সভা করালে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলা সম্ভব হবে। এক নেতার কথায়, ‘‘আমরা ভোটারদের মেরুকরণ করতে চাইছি।’’ বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন, ইতি মধ্যেই বনগাঁর দলীয় প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর প্রচারে সাড়া পাচ্ছেন। আদিত্যনাথের সভার পর কর্মী সমর্থকেরা আরও চাঙ্গা হয়ে উঠবেন। প্রচারে আরও গতি আসবে।

আদিত্যনাথ এ বার কুম্ভমেলাতে যাওয়ার জন্য শান্তনু ও তাঁর বাবা মঞ্জুলকে উত্তরপ্রদেশের সরকারের তরফে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ফলে মতুয়া ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে ইতিমধ্যেই একটি যোগসূত্র তৈরি হয়েছে তাঁর। বিজেপি সূত্রের খবর, সভা থেকে মতুয়াদের উদ্দেশ্যেও আদিত্যনাথ বার্তা দিতে পারেন। মতুয়া ও উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের বিষয়ে বিজেপি সরকারের পদক্ষেপ ব্যাখা করার সম্ভবনাও রয়েছে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর।           আদিত্যনাথের সভা সফল করতে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব উঠে পড়ে  লেগেছেন। বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আদিত্যনাথের সভায় প্রায় ২ লক্ষ মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা মনে করছি। সভাস্থলের মাঠটি তুলনায় ছোট হয়ে যাওয়াতে আমরা বহু মানুষ আনতে পারছি না। মতুয়ারাও সভায় আসবেন।’’  যদিও বিজেপির সভাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘‘যে কেউ সভা করতে আসতেই পারেন। ভোটের ফলাফলে এর কোনও প্রভাব পড়বে না।  জেলার পাঁচটি আসনে আমাদের জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। বিজেপিকে নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমরা মার্জিন বাড়ানো নিয়ে ভাবছি।’’     

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত