ঘর থেকে উদ্ধার হল স্বামী-স্ত্রীর দেহ। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিংয়ের দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের পোড়ামুড়ো গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম টুম্পা মণ্ডল (১৯) ও অমিত মণ্ডল (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মাত্র সাত মাস আগে বাসন্তীর সোনাখালি গ্রামের বাসিন্দা টুম্পার সঙ্গে বিয়ে হয় অমিতের। অমিত পেশায় সেলুন কর্মী। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যথেষ্ট ভাব-ভালবাসা ছিল বলেই দাবি পরিবারের। তবে গত কয়েক দিন ধরে টুম্পা বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য বায়না করছিলেন বলে দাবি অমিতের মা সন্ধ্যার। অমিত রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়েছে কিনা, তা অবশ্য জানাতে পারেননি কেউ। সোমবার সন্ধ্যায় কিছুটা দূরে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান সন্ধ্যা। সেখান থেকে রাতে বাড়ি ফিরে দেখেন, গ্রিলের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। তখনও কিছু বুঝে উঠতে পারেননি তিনি। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ অমিতের বাবা যুধিষ্ঠির বাড়িতে ফিরলে তখনও ছেলে-বৌমাকে দেখতে না পেয়ে সন্দেহ হয়। মোবাইলে ফোন করলেও যোগাযোগ করা যায়নি অমিত-টুম্পার সঙ্গে। ছাদে উঠে সিঁড়ি ঘরের দরজা খুলে ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, টুম্পার দেহ বিছানায় শোয়ানো। অমিতের দেহ ঝুলছে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অমিতের মা বলেন, “ছেলে-বৌমার মধ্যে কোনও ঝগড়া অশান্তি ছিল না। খুব মিলমিশ ছিল। কী যে হল, বুঝতেই পারছি না।’’

প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও রকম বচসার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে তবেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই যুবক। পুলিশ দু’টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। দেহ দু’টি পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে।