শ্বশুরবাড়ির বারান্দায় মিলল জামাইয়ের দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সমীর ঘোষ (২৯)। পেশায় রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে সমীর বিয়ের পর থেকে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন।

রবিবার ভোরে দেহ উদ্ধারের পরে উত্তেজনা ছড়ায় দেগঙ্গা থানার সোহায়-শ্বেতপুর ঘোষপাড়া এলাকায়। সমীরের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। খুনের অভিযোগ তুলে সমীরের স্ত্রী, শ্যালিকা, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর বাবা রামচন্দ্র ঘোষ। ওই ঘটনায় সমীরের স্ত্রী চন্দনা ঘোষকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ১৫ বছর আগে মোবারকপুরের বাসিন্দা সমীরের সঙ্গে শ্বেতপুরের চন্দনার বিয়ে হয়। তাঁদের একটি ১০ বছরের ছেলে আছে। বিয়ের পর থেকে সমীর শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সমীরের শ্বশুর অজিত ঘোষ এ দিন জানান, শনিবার কাজে বেরিয়ে রাতে বাড়ি ফেরেননি জামাই। রাত দু’টো নাগাদ শৌচাগারে যাওয়ার পথে চন্দনা বারান্দায় একটি চৌকিতে হেলান দিয়ে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন সমীরকে। তাঁর চিৎকার শুনে বাড়ির বাইরে এসে পুলিশে খবর দেন অজিতবাবু।

পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সমীরের দিদি টুম্পা ঘোষ বলেন, ‘‘বিজয়ার দিন চন্দনা আমাদের বাড়িতে এসে ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। আর সেই হুমকি যে সত্যি হবে তা কল্পনা করতে পারেনি।’’ সমীরের বাবা রামচন্দ্রবাবু এ দিন বলেন, ‘‘রবিবার সকালে দেগঙ্গা থানার পুলিশ ফোন করে জানায় সমীর মারা গিয়েছে। থানায় এসে দেখি আমার ছেলের গলায় ফাঁস লাগানোর কালো দাগ। পিঠে ও পেটে ক্ষত ও আঁচড়ের দাগ। পরনে জামা নেই। প্যান্টে কাদা মাখানো।’’

সমীরকে খুন করা হয়েছে বলে এ দিন দাবি করেন রামচন্দ্র। সমীরের শ্যালিকা জয়ন্তী ঘোষ বলেন, ‘‘আমার জামাইবাবুর অবৈধ সম্পর্ক আছে। দিদিকে দেখে না। বাড়িতেও আসে না। এক মহিলাকে বিয়ে করে সেখানে থাকে। এ নিয়ে বহুবার স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ হয়েছে।’’ 

সমীরকে খুন করে বাড়ির বারান্দায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর স্ত্রী চন্দনার।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়না-তদন্তের রিপোর্ট মেলার পরে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিশ।