বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনার জন্য রাখা হয়েছিল আয়া। সঙ্গে থাকতেন এক জন পরিচারিকা। দু’জনকেই খড়দহের একটি আয়া সেন্টার থেকে কাজে রেখেছিলেন সিঁথির বাসিন্দা ইন্দ্রনীল বসু।

আয়া সেন্টার থেকে দু’জনকেই দেখে-শুনে কাজে রাখায় বিশ্বাসও করেছিলেন দু’জনের উপরে। কিন্তু সম্প্রতি বাড়ির আলমারি খুলে জিনিস বার করতে গিয়ে ইন্দ্রনীলবাবু দেখেন আলমারির লকার থেকে উধাও প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং একাধিক সোনার গয়না! শেষে পুলিশের দ্বারস্থ হলে শনিবার দু’জনকেই গ্রেফতার করল সিঁথি থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম শিবানী মণ্ডল এবং প্রতিমা গোস্বামী। দু’জনের কাছ থেকেই চুরি যাওয়া টাকা এবং গয়নার বেশিরভাগটাই উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, ৯এ/৩এ সাউথ সিঁথি রোডের বাসিন্দা ইন্দ্রনীলবাবু গত ১৫ অগস্ট একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে তিনি জানান, ১২ অগস্টের আগে তাঁর মায়ের বাড়ি থেকে কয়েক হাজার টাকা এবং সোনার গয়না চুরি হয়েছে। তাঁদের সন্দেহ এই কাজে আয়া এবং পরিচারিকা জড়িত। কারণ তাঁর মায়ের বেশ কয়েক মাস আগে পেসমেকার যন্ত্র বসে এবং তার পর থেকে তিনি একতলাতেই থাকেন। দোতলার ঘরে খুব একটা যেতে পারেন না।

সম্প্রতি মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে ইন্দ্রনীলবাবু দোতলার ঘরের আলমারি থেকে জিনিসপত্র বার করতে গিয়ে দেখেন লকার থেকে অনেক জিনিস উধাও। এর পরেই তিনি মায়ের থেকে সব জিনিসের তালিকা চান। পুলিশ জানায়, বয়স হয়ে যাওয়ায় বৃদ্ধা শুধুমাত্র বেশ কিছু গয়না এবং ২৫ হাজার টাকার হিসাব দেন যেগুলি আলমারিতে ছিল বলেই তাঁর স্মরণে রয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েক ভরির সোনার গয়নাও আলমারিতে নেই বলেই ইন্দ্রনীলবাবুর দাবি। এর পরেই তদন্তে নেমে পুলিশ আয়া শিবানী এবং পরিচারিকা প্রতিমাকে আটক করে পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করে। তদন্তকারীরা জানান, জেরায় পুলিশকে প্রতিমা জানান চুরি করা টাকা এবং সোনার গয়না জগদ্দলে তাঁর বাড়ির বাগানে কলাগাছের নীচে পোঁতা রয়েছে। সেখান থেকেই পুলিশ একটি প্লাস্টিকের বোতল উদ্ধার করে। তাতে মিলেছে ইন্দ্রনীলবাবুর মায়ের আলমারি থেকে চুরি যাওয়া ২১ হাজার টাকা এবং চুরি যাওয়া বেশির ভাগ সোনার গয়না। পরে অপর অভিযুক্ত শিবানীর কাছ থেকে মিলেছে চার হাজার টাকা এবং বাকি গয়না।