সেই তেঁতুলতলা মোড়। সেই একই পার্টি অফিস। বছর খানেক পরে হালিশহরে ফের ফিরল রাজ-আতঙ্ক।

তৃণমূলের দাপুটে নেতা, হালিশহরের উপ-পুরপ্রধান রাজা দত্ত জনরোষে প্রায় এক বছর এলাকাছাড়া ছিলেন। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, যখন ছিলেন, তখন তিনিই ছিলেন হালিশহরের শেষ কথা। 

এলাকায় ফিরে বেশ কিছুদিন চুপচাপই ছিলেন তিনি। অভিযোগ, শনিবার দুপুরে নিজের পুরনো পার্টি অফিসে ডেকে দলেরই কর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন রাজা। এই ঘটনার পরে দেবাশিস (লাল্টু) পাল নামে ওই যুবক সটান বীজপুর থানায় গিয়ে রাজার নামে অভিযোগ করেন। 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা লাল্টুর বিরুদ্ধেই তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। রাজা বলেন, ‘‘ও নিজেকে তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করলেও পার্টির কেউ নয়। ও আসলে জমির দালাল। এক বিধবার জমি জোর করে ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি ওকে এই ধরনের কাজ বন্ধ করতে বলেছিলাম। তাতে ও-ই আমাকে হুমকি দিয়েছে।’’ লাল্টু অবশ্য রাজার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তৃণমূলের কর্মীরা বলছেন, টানা গরহাজিরায় এলাকায় তাঁর দাপট কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়েছিল রাজার। সেই জন্যই তাঁর নিজের ওয়ার্ডের কর্মীকে ডেকে ভরদুপুরে জনবহুল রাস্তায় এমন ভাবে হুমকি দিয়েছেন। তবে, দলের উপর মহলে সেই তথ্য এখনও পৌঁছয়নি। লাল্টু জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি দলের উপর মহলে জানাবেন। 

রাজা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ওই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা লাল্টু। যন্ত্রাংশের দোকান চালানোর পাশাপাশি ঠিকাদারির কাজও করেন ওই তৃণমূল কর্মী। তিনি জানান, রাজা এলাকাছাড়া হওয়ার পরে ওয়ার্ডের লোকেরা বিভিন্ন কাজের জন্য তাঁর কাছে আসতেন। তিনি সাধ্যমতো তাঁদের উপকার করার চেষ্টা করতেন। পুরসভার বিভিন্ন কাজে এলাকার মানুষ এখনও তাঁর কাছে আসেন। 

লাল্টুর অভিযোগ, ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা তাঁর কাছে আসছেন বলেই রাজা তাঁর উপরে রুষ্ট হয়েছেন। এলাকায় নিজের দাপট কমছে বলে মনে করছিলেন তিনি। সেই জন্যই তাঁকে ডেকে এনে হুমকি দিয়েছে রাজা।

কী ঘটেছিল শনিবার?

লাল্টু জানান, তিনি তেঁতুলতলায় ছিলেন। দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ রাজা দলবল নিয়ে তাঁর পুরনো পার্টি অফিসে আসেন। লোক দিয়ে তাঁকে ডেকে পাঠান। অভিযোগ, তিনি যেতেই তাঁকে এলাকার কোনও বিষয়ে নাক না গলানোর এবং কোনও কাজ না করতে বলেন। লাল্টু বলেন, ‘‘আমি বলি, আমি কী করব, না করব, সেটা দল ঠিক করবে। তুমি বলার কে? তোমার কথায় আমি কাজ করব নাকি?’’ অভিযোগ, এই কথা শুনে রেগে রাজা তাঁকে বলেন, ‘‘আমি যা বলছি, তাই তোকে শুনতে হবে। না শুনলে ফল ভাল হবে না। আর তুই জানিস কী হবে। একটার ক্ষেত্রে যা হয়েছিল সেই ঘটনাই ফের ঘটবে।’’ এই হুমকির অর্থ জানতে চাইতেই রাজা তাঁকে খুনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ লাল্টুর। সেই সময়ে রাস্তায় প্রচুর লোক জমে যায়। তখনই তাঁকে গুলি করে খুন করা হবে বলে হুমকি দেন রাজা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তুলে প্রতারণার ঘটনায় পুলিশ রাজাকে খুঁজছিল। সপ্তাহ দু’য়েক আগে শহরে ফিরে তিনি চুপচাপ ছিলেন। পরে এক মহিলার টাকা ফেরত দেন তিনি। তার পর থেকেই ফের এলাকায় দেখা যাচ্ছে তাঁকে। তার ফলে এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন 

বলে অভিযোগ।