• সীমান্ত মৈত্র
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারের স্মারক আজও উদ্ধার হল না 

Binoy Majumder
এই বাক্সেই রাখা ছিল স্মারক। ছবি: নির্মাল্য প্রামাণিক

প্রায় এক বছর হতে চলল, অথচ আজও উদ্ধার হল না ‘ফিরে এসো চাকা’ খ্যাত কবি বিনয় মজুমদারের সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারের স্মারক।গত বছর ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিনয় মজুমদার সাধারণ গ্রন্থাগার থেকে স্মারকটি চুরি হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার তদন্ত শুরু করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। পরে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তারপরও স্মারকের হদিস মেলেনি। অভিযোগ, যে তৎপরতার সঙ্গে পুলিশ সিআইডির তদন্ত করা উচিত ছিল, তা অনেক দিন হল থমকে আছে। স্মারক উদ্ধার না হওয়াতে হতাশ কবি সাহিত্যিক মহল এবং বিনয় ভক্তরা। বনগাঁর পুলিশ সুপার তরুণ হালদার বলেন, ‘‘স্মারক চুরির ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ঘটনার তদন্ত ভার নিয়েছে সিআইডি। তারা গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে। কোনও তথ্য পেলে আমরা সিআইডিকে জানাচ্ছি।’’         

বৃহস্পতিবার ছিল কবি বিনয় মজুমদারের ৮৭ জন্মদিন। কবি বিনয় মজুমদার স্মৃতি রক্ষা কমিটি এবং কবি বিনয় মজুমদার সাধারণ গ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে এ দিন কবির গাইঘাটার ঠাকুরনগর রেলস্টেশন সংলগ্ন বসতবাড়িতে  স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে কবি সাহিত্যিকেরা উপস্থিত হয়ে বিনয়কে শ্রদ্ধা জানান। সেখানেও আলোচনায় উঠে আসে, স্মারক উদ্ধার না হওয়ার বিষয়টি। বিনয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন কবি বিভাস রায়চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘কবি বিনয় মজুমদার যথাসময়ে ওই পুরস্কার পাননি।  তাঁর থেকে বয়সে অনেক ছোট কবিও তাঁর আগে ওই পুরস্কারটি পেয়েছেন। শেষ বয়সে পাওয়া  পুরস্কার নিতে তিনি আর দিল্লিতে যাননি। তাঁর বাসভবনে এসে একাডেমি কর্তৃপক্ষ পুরস্কার দিয়ে যান।  সেই পুরস্কারের স্মারক চুরি হয়ে যাওয়া মানা যায় না। পুলিশ ঠিকঠাক তদন্ত করলেই অপরাধী ধরা পড়বে।’’ সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ দিন কবিকে স্মরণ করেছেন অনেকেই। সকলেরই বক্তব্য, ‘‘কবে ফিরে পাওয়া যাবে স্মারকটি।’’         

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঠাকুরনগর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিনয় মজুমদারের বসত বাড়ি। বাড়ি-সহ জমি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। তার মধ্যে রয়েছে, কবি বিনয় মজুমদার সাধারণ গ্রন্থাগার। ওই গ্রন্থাগারে রয়েছে কবির পাওয়া অনেক পুরস্কার সম্মান স্মারক, বই, ছবি ব্যবহৃত জিনিসপত্র সহ বহু মূল্যবান বস্তু। গ্রন্থাগারের মধ্যে একটি আলমারির মধ্যে রাখা ছিল সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারের স্মারকটি। আলমারি তালা দেওয়া থাকে। গ্রন্থাগারের গ্রাহক সংখ্যা কয়েকশো তাঁরা নিয়মিত গ্রন্থাগারে এসে বই পড়েন। বাড়িতেও বই নিয়ে যান। সেখান থেকেই স্মারক চুরি হয়ে গিয়েছিল। আলমারির চাবি ছিল টেবিলের ড্রয়ারে। চোর সেখান থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে শুধু মাত্র সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারের স্মারকটিই নিয়ে গিয়েছে। আলমারির মধ্যে কবির পাওয়া রবীন্দ্র পুরস্কারের স্মারকটিও ছিল। চোর সেটি নেয়নি। এমনকী ড্রয়ারে থাকা নগদ টাকা পয়সাও নেয়নি। স্মারক চুরি হওয়ার পরদিন সকালে কবির বসত বাড়ির চত্বরে একটি সবেদা গাছের তলায় গ্রন্থাগারের সদস্যেরা হঠাৎ খুঁজে পান চুরি যাওয়া স্মারকটি যে ফাইবারের বাক্সের মধ্যে ছিল সেটি। বাক্সটি ভাঙা অবস্থায় ছিল। পাশেই পড়ে ছিল স্মারকটিতে থাকা কবির নাম লেখা নেমপ্লেটটি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, চুরি যাওয়া স্মারকটি সোনার জল করা ছিল। দেখে মনে হত সোনার। চোরেরা স্মারকটি সোনার মনে করে চুরি করে থাকতে পারে। গ্রন্থাগার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে কবি সাতিহ্য একাডেমি পুরস্কার পান, তাঁর লেখা হাসপাতালে লেখা কবিতা গুচ্ছ কাব্যগ্রন্থের জন্য। বইটি তিনি লিখেছিলেন ২০০৩ সালে। বিনয় মজুমদার স্মৃতি রক্ষা কমিটির কার্যকরী সভাপতি দীপক মিত্র বলেন, ‘‘স্মারকটি খুঁজে পেতে যতটা তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত করা উচিত ছিল। তা করা হচ্ছে না। আমরা তদন্তে সব রকমের সহযোগিতা করেছি। আমরা হতাশ।’’ 

গ্রন্থাগারের সম্পাদক বৈদ্যনাথ দলপতি বলেন, ‘‘স্মারক চুরি হওয়াটা আমাদের কাছে হৃদয় চুরি হওয়ার মতো। আমরা হতাশ। সাহিত্য অ্যাকাডেমি কাছে স্মারকের ডুপ্লিকেট চেয়ে আবেদন করব।"     

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন