বিধায়কের বাড়িতে ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। 

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা গারুলিয়ার পুরপ্রধান সুনীল সিংহের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পুলিশ তাঁর পৈতৃক বাড়িতে আসে। ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়। 

পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, ওই বাড়িতে তারা কোনও তল্লাশিই করেনি। তবে ওই বাড়িতে পুলিশ যে গিয়েছিল, তা মানছেন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের কর্তারা। কেন গেল পুলিশ?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, রবিবার একটি পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ বেধেছিল। বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহ আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধ করে বিজেপি। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। 

ওই ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে পুলিশ অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেছে। সেই সূত্রে ভিকি যাদব নামে এক যুবকের নাম উঠে এসেছে। তাঁর খোঁজে বুধবার রাতে জগদ্দল থানার পুলিশ গারুলিয়ায় যায়। একটি বাড়িতে পুলিশ তার খোঁজ চালায়। ভিকি সেই বাড়ির ছাদ থেকে লাফ মেরে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তাড়া করে তাঁকে ধরে। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ ভিকিকে সঙ্গে নিয়ে ফের ওই বাড়িতে যায়। তারপরেই সুনীলের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয় পুলিশ ‘সার্চ ওয়ারেন্ট’ ছাড়াই তাঁর পৈতৃক বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য পুলিশ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। 

যে বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল, সেখানে বর্তমানে সুনীলের দাদা চন্দ্রভান সিংহ সপরিবার থাকেন। সুনীল থাকেন অন্য বাড়িতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিকি গত চার বছর ধরে ওই বাড়িতেই ছিলেন। তিনি চন্দ্রভানের ছেলের ব্যবসায়িক কাজকর্ম দেখাশোনা করেন। 

সুনীল বলেন, ‘‘পুলিশ আসলে আমাদের বাড়িতে তল্লাশির জন্যই এসেছিল। আমি বিজেপিতে যাওয়ায় পুলিশ দিয়ে হেনস্থার রাস্তা নিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু পুলিশ আমার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও কিছু পায়নি।’’

 পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, ভিকিকে জেরা করে অনেক কিছু জানা গিয়েছে। তাঁর বয়ানের ভিত্তিতে পরবর্তীকালে আরও নতুন তথ্য জানা যাবে। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (জোন ১) অজয় ঠাকুর বলেন, ‘‘রাতের অন্ধকারে ওই যুবক একটি বাড়ি থেকে ঝাঁপ মেরে পালানোর চেষ্টা করেছিল। সেখানে অনেক প্রমাণ থাকতে পারে। দিনের আলোয় ওই জায়গা ভাল ভাবে দেখতে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। কোনও ভাবে ওই বাড়িতে তল্লাশি হয়নি। পুলিশ সেই উদ্দেশ্যে যায়নি। পরে জানা যায়, বাড়িটি বিধায়কের পৈতৃক বাড়ি।’’