গায়ে তাঁর খাকি উর্দি নেই। পরনে সাদা জামা আর জিন্‌স। পাঁচিলের ধার পরিষ্কার করছেন আইসি।

জমা জল সরিয়ে চুন-ব্লিচিং ছড়াচ্ছেন থানার সাব-ইন্সপেক্টর।

রবিবার সাত সকালে বসিরহাট থানার পাশে হাটের মধ্যে এমন দৃশ্য দেখে অবাক হলেন পথ চলতি মানুষ। রাত জেগে দুষ্কৃতী ধরার পাশাপাশি এ ভাবেই ডেঙ্গির জীবাণু বহনকারী মশা মারতে উদ্যোগী হল বসিরহাট থানার পুলিশ।

সম্প্রতি বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে জ্বর ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ডেঙ্গির কারণে মৃত্যু হচ্ছে বহু মানুষের। পুলিশের এক অফিসারও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে বসিরহাটের সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এমন পরিস্থিতিতে মশা নিধনে রাস্তায় নেমে পড়তে দেখা গেল বসিরহাট থানার পুলিশকে। মাইক, ব্যানার কিংবা পোস্টার নয়, এ দিন সকালে বসিরহাট থানার আই সি বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মনিরুল ইসলাম-সহ পুলিশকর্মীরা অ্যাপ্রন গায়ে, মাথায় টুপি, মুখে মাস্ক এবং হাতে গ্লাভস পরে রাস্তায় নেমে পড়েন। থানা চত্ত্বর থেকে শুরু হয় চুন-ব্লিচিং ছড়ানো। পুরনো বাজারে হাট এলাকা থেকে ইছামতী নদীর ধারে থাকা বসতি এবং পুকুর ধার থেকে নিকাশি নালা, সর্বত্র চুন-ব্লিচিং ছড়ানো হয়।

সকাল সকাল পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের এলাকা পরিষ্কারের উদ্যোগকে প্রশংসা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে হাটে আসা মানুষের কথায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যেমন রাত জেগে দুষ্কৃতী ধরে, তেমনই বিপদে এলাকার মানুষের পাশে থেকে ঝোপ-ঝাড়, জঞ্জাল, নিকাশি নালা পরিষ্কার করে মারতেও পারে। পুলিশের এই উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বলে দাবি করে বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দোকান, বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করতেসকলে এগিয়ে এলে ডেঙ্গি বহনকারী মশা নিধন সম্ভব হবে।’’

কেবল পুলিশই নয়, এ দিন বসিরহাটের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় মানুষ, সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষে জঞ্জাল পরিষ্কার করে চুন-ব্লিচিং ছড়াতে দেখা যায়। ডেঙ্গির মশা নিধনে বাদুড়িয়ার গ্রামে যেমন স্কুল পড়ুয়াদের নেমে পড়তে দেখা যায় সন্দেশখালি ব্লকের সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার বেড়মজুর এবং ঝুপখালি গ্রামে এলাকার মানুষকে সচেতন করতে এগিয়ে আসে একটি সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। মাইক প্রচার, লিফলেট বিলির মধ্য দিয়ে সচেতন করার পাশাপাশি নিকাশি নালা পরিষ্কার করে ব্লিচিং ছড়ানো হয়। সংস্থার সম্পাদক প্রদীপ্ত সরকারের কথায়, ‘‘বসিরহাটের চারদিকে যে ভাবে মশার উপদ্রবে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে তাতে সন্দেশখালির মানুষও নিরাপদ নন। তাই গ্রামের মানুষকে সচেতন করার সঙ্গে রাস্তার দু’পাশ পরিষ্কার করার উদ্যোগও নেওয়া হয়।’’