মোটর ভ্যানের সংখ্যা বাড়ছে। যাত্রী পরিবহণ থেকে শুরু করে মাল বহন— সব কাজেই মোটরচালিত এই যানের ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ।

জয়নগর, কুলতলি অঞ্চলে গত কয়েক মাসে মোটর ভ্যানের সংখ্যা বেড়েছে প্রচুর। কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে ভ্যানগুলি যায়। পাশ থেকে গেলে চোখ, নাক জ্বালা করে। ডিজেল বা কাটাতেল এমনকী কেরোসিনেও চলে এই গাড়ি। যা থেকে দূষণ ছড়াচ্ছে প্রচুর মাত্রায়।

এক মোটরভ্যান চালকের কথায়, ‘‘এই ধরনের ভ্যানগুলির দাম কম। রক্ষণাবেক্ষণেরও তেমন খরচ নেই। ফলে অনেক সস্তায় পণ্য পরিবহণ করা যায়।’’ আজিজুল হক আগে গাড়ি চালাতেন। ইদানীং মোটর ভ্যান চালাচ্ছেন। আজিজুলের কথায়, ‘‘আগে গাড়িতে বছরে কয়েক হাজার টাকা শুধু বিমার পিছনেই খরচ হত। তারপরে দূষণ মুক্ত শংসাপত্র-সহ আরও অনেক খরচ ছিল। মোটর ভ্যানে এ সব ঝক্কি নেই।’’ রাখঢাক না রেখেই আজিজুল জানান, মোটর ভ্যানে কাগজপত্রেরও বালাই নেই।

মোটর ভ্যান স্থানীয় ভাবে জোড়াতালি দিয়ে তৈরি হয়। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি। গত কয়েক মাসে শুধু জয়নগর অঞ্চলেই একাধিক মোটরভ্যান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, মোটরচালিত হলেও মোটরগাড়ির সঙ্গে এই সব ভ্যানের অনেক তফাত। এদের ব্রেক বা অন্যান্য ব্যবস্থা মোটরগাড়ির মতো উন্নত নয়। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমার বালাই না থাকায় মোটরভ্যানের ধাক্কায় কারও কোনও ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা নেই।

জয়নগর-মজিলপুর পুরসভা থেকে বছরে দেড়শো টাকার বিনিময়ে মোটরভ্যানের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পুরসভা সূত্রে খবর, প্রায় দেড়শো ভ্যান নথিভুক্ত রয়েছে তাঁদের কাছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তার থেকে অনেক বেশি ভ্যান দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই অঞ্চলে।

জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার উপ পুরপ্রধান তুষারকান্তি রায় বলেন, ‘‘ইদের পর থেকেই এ ব্যাপারে নজরদারি শুরু হয়েছে। পুরসভার ছাড়পত্র ছাড়া কোনও মোটর ভ্যান ধরা পড়লেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’ দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তুষারবাবুর বক্তব্য, ‘‘আমরা শুধুমাত্র পুরসভা এলাকায় পরিবহণের ছাড়পত্র দিই। বিমা, দূষণ এ সব পুরোটাই পুলিশের ব্যাপার।’’

বারুইপুরের ডিএসপি (ট্র্যাফিক) কুতুববদ্দিন খানের কথায়, ‘‘এটা ঠিক যে মোটরভ্যানগুলির কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। মামলার ফল না বেরোনো পর্যন্ত এগুলিকে বৈধতা দেওয়া বা বন্ধ করে দেওয়া— কোনও পদক্ষেপই করা যাচ্ছে না। তবে ট্র্যাফিক আইন ভাঙলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’’