আর মাত্র তো হাতে গোনা কয়েকটা দিন। তার পরেই মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয়ে যাবে ভিড়। 

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের শহরগুলি আপাতত ব্যস্ত কে কার আগে মণ্ডপের সদর দরজা হাট করে খুলে দিতে পারে। কিন্তু তার আগেই প্রজাপতির ডানার ঝাপটে বেসামাল উদ্যোক্তারা। এ প্রজাপতি ‘তিতলি’। ভয়ানক ঝড়ের নাম। প্রতিবেশী ওড়িশা সেই ঝড়ে কাহিল। প্রবল নিম্নচাপের জেরে আকাশের মুখ ভার শহর কলকাতা এবং শরহতলির। 

শরতের নীল আকাশ ঢেকে গিয়েছে মেঘে। বুধবার থেকে ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বেড়েছে বৃষ্টির তেজ। আশঙ্কা বাড়িয়ে আবহাওয়া দফতর অতি ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি করে রেখেছে। হাওয়া অফিস যতই বলুক, পুজোয় মেঘমুক্ত আকাশ থাকবে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগে পুজো উদ্যোক্তারা। 

শেষ বেলায় টি-টোয়েন্টির ঢঙে চালিয়ে খেলে কাজ তোলার সময়। সেই প্রস্তুতিটাই মাটি হচ্ছে নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে। তার ফলে কোথাও পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে মণ্ডপে প্রতিমা আনার কাজ, কোথাও মণ্ডপ শিল্পীরা প্যান্ডেলের বাইরের কাজে হাতই দিতে পারছেন না। টেনশন বাড়ছে উদ্যোক্তাদের। 

কাঁচরাপাড়ার বাগ মো়ড়ের একটি পুজো কমিটির এ বারের থিম ‘পদ্মাবত’। রাজস্থানের দুর্গের আদলে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। মণ্ডপের সিংহভাগ কাজ প্রায় শেষ। বাকি শুধু প্যান্ডেলের বাইরের কিছু কাজ, আর শেষবেলার রূপটান। একটানা বৃষ্টি সেই কাজে বাদ সেধেছে। তার ফলে আপাত অন্দরসজ্জার কাজ করছেন শিল্পীরা। নৈহাটির বিজয়নগরের একটি পুজো কমিটি এ বার পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরের আদলে প্যান্ডেল করেছে। তার কাজও প্রায় শেষের পথে। বাকি কাজটুকু নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উদ্যোক্তারা। 

নৈহাটির একটি পুজোয় এ বারের থিম খাজুরাহোর মন্দির। তার বেশ কিছু কাজ এখনও বাকি। তা শেষ করা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের একজন বললেন, ‘‘আবহাওয়া দফতর সতর্কতা জারি করেছে, আরও দু’দিন চলবে নিম্নচাপের বৃষ্টি। তার মানে সেই ষষ্ঠী। চতুর্থী বা পঞ্চমীর সন্ধ্যায় পুজো উদ্বোধন করার পরিকল্পনা ছিল আমাদের। সেটা মনে হয় আর হবে না। বাকিটা সময়ের হাতেই ছাড়তে হবে।’’

ব্যারাকপুরের একটি পুজো কমিটির এ বারের থিম দার্জিলিং। কারুকাজের বেশিরভাগটা মণ্ডপের মধ্যে হলেও তুষার শুভ্র পাহাড়-সহ বেশ কিছু অংশ রয়েছে খোলা মাঠে। পাহাড়ের উপরে বরফের আদল আনতে ব্যবহার করা হয়েছে সিন্থেটিক তুলো। বৃষ্টিতে সেই তুলো চুপসে দফারফা। ত্রিপল দিয়ে ঢেকে কোনও রকমে বরফ-রক্ষা চলছে মণ্ডপে।

ইছাপুরের একটি মণ্ডপের থিম রাজস্থানের মরুভূমি। তার জন্য লরি লরি বালি এনে তৈরি হয়েছে বালিয়াড়ি। সঙ্গে বালির ঢিবি। রয়েছে মাটির তৈরি উট। কিন্তু বৃষ্টিতে মরুভূমির চেহারা পুরো চুপসে গিয়েছে। বালির ঢিবি মাটিতে মিশেছে। আর মরু-জাহাজের মূর্তি আপাতত মণ্ডপের অন্দরে ঠাঁই পেয়েছে।