• সামসুল হুদা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পিপিই-সহ সরঞ্জাম চান গ্রামীণ চিকিৎসকেরা

Covid-19
প্রতীকী ছবি

গ্রামীণ চিকিৎসা পরিষেবায় তাঁদের ভূমিকা অস্বীকার করতে পারে না সরকারও। যে কারণে নানা সরকারি প্রকল্পে গ্রামীণ চিকিৎসকদের কাজে লাগানোর চেষ্টাও হয়। করোনা পরিস্থিতিও ব্যতিক্রম নয়। রাজ্য জুড়ে করোনা আবহে যখন বহু চিকিৎসক চেম্বার বন্ধ রেখেছেন, সংক্রমণের ভয়ে হাসপাতালে যেতে চাইছেন না রোগীরা, সেখানে গ্রামীণ চিকিৎসকেরা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে পরিষেবা দিয়ে চলেছেন জেলায় জেলায়। সরকারও তাঁদের থেকে করোনা রোগের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর তথ্য সংগ্রহ করছে। কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চললেও করোনা-সুরক্ষায় সরকারি ভাবে তাঁরা কোনও সাহায্য পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন গ্রামীণ চিকিৎসকেরা। 

গ্রামীণ চিকিৎসকদের সংগঠন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ জন গ্রামীণ চিকিৎসক মারা গিয়েছেন। আরও ৬ জন অসুস্থ। কিন্তু না তো সরকারি ভাবে পিপিই বা মাস্ক-স্যানিটাইজ়ার পান গ্রামীণ চিকিৎসকেরা, না তো সরকারি উদ্যোগে তাঁদের চেম্বার কখনও জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এই মুহূর্তে প্রায় ৪২০০ জন গ্রামীণ চিকিৎসক কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন বঙ্গীয় গ্রামীণ চিকিৎসক সমিতির রাজ্য সম্পাদক আমির আলি মোল্লা। তিনি বলেন, ‘‘করোনা মোকাবিলায় সরকার বার বার লকডাউন ঘোষণা করছে। ফলে সরকারি পরিষেবা বন্ধ থাকছে। মানুষ হয়রান হচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা পেতে আমাদের কাছে ছুটে আসছেন। এই পরিস্থিতিতে যদি আমরা তাঁদের পরিষেবার না দিই, তা হলে এই মানুষগুলো কোথায় যাবেন? অনেকেই সরকারি হাসপাতালে যেতে চাইছেন না। আর এই পরিষেবা দিতে গিয়ে আমরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছি। আমাদের জন্য সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেই।’’ তাঁর দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের মতো গ্রামীণ চিকিৎসকদের জন্য যদি সুরক্ষা কিটের ব্যবস্থা করা হয়, তা হলে অনেকেই উপকৃত হবেন।’’ সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে, অনেক গ্রামীণ চিকিৎসক আছেন, যাঁরা আর্থিক ভাবে দুর্বল। তাঁদের পক্ষে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়। 

জেলাশাসক পি উলগানাথন বলেন, ‘‘আমাদের কাছে গ্রামীণ চিকিৎসক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনও আবেদন করা হয়নি। ওঁরা চাইলে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরক্ষা কিটের ব্যবস্থা করতে পারি।

দিন কয়েক আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ভাঙড়ের এক গ্রামীণ চিকিৎসক। ভাঙড় ২ ব্লকের আলাকুলিয়া গ্রামের বছর চৌষট্টির ওই গ্রামীণ চিকিৎসক এলাকার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন। ভাঙড় ২ ব্লক এলাকায় দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যেও ওই গ্রামীণ চিকিৎসক এলাকায় জ্বর, সর্দি-কাশি, পেট ব্যথা সহ বিভিন্ন রোগের উপসর্গ নিয়ে আসা মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তাঁরও জ্বর, সর্দি কাশি, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হলে সেখানেই মারা যান।

সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারের নুরপুর ব্লকেরও এক গ্রামীণ চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এ ছাড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় অনেক গ্রামীণ চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত বলে জানা গিয়েছে।

গ্রামীণ চিকিৎসা পরিকাঠামোয় গ্রামীণ চিকিৎসকদের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক কর্তাও মনে করেন, সরকারি ডাক্তারেরা যেখানে গ্রামাঞ্চলে যেতে হামেশাই অরাজি হন, সেখানে গ্রামীণ চিকিৎসকদের তালিম দিয়ে দক্ষতা আরও বাড়িয়ে কাজে লাগানো উচিত। বস্তুত, গত কয়েক বছর ধরে গ্রামীণ চিকিৎসকদের নানা সরকারি কাজে সামিল করে সুফলও পাওয়া গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্তাদের অনেকে। যেমন, সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় বা জন্মনিয়ন্ত্রণের কাজে গ্রামীণ চিকিৎসকদের নানা ভাবে কাজে লাগায় সরকার। 

ভাঙড়ের এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘ক’দিন আগে জ্বর এসেছিল। হাসপাতালে গিয়ে লালারস পরীক্ষা করাতে গিয়ে না আক্রান্ত হই, এই ভয় করছিল। কাছেই এক গ্রামীণ চিকিৎসককে গিয়ে দেখালাম। তিনি উপসর্গ দেখে জানালেন, ভাইরাল ফিভার। লালারস পরীক্ষার দরকার নেই এখনই। তবে ক’দিন সতর্ক থাকতে বললেন। ওষুধপত্র দিলেন। সেরেও গেলাম।’’ 

ক্যানিংয়ের এক বাসিন্দা জানালেন, কলকাতা থেকে একজন চিকিৎসক আসতেন। তাঁকেই নিয়মিত দেখান। কিন্তু করোনা-আবহে তিনি আসছেন না। পরিচিত এক গ্রামীণ চিকিৎসকেরা কাছে গিয়ে ওষুধ খেয়ে ফল মিলেছে। ওই ব্যক্তির কথায়, ‘‘সব সময়ে হাসপাতালে গিয়ে লাইন দিয়ে ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয় না। অভিজ্ঞ গ্রামীণ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া যেতেই পারে।’’

বাসন্তীর এক গ্রামীণ চিকিৎসকের কথায়, ‘‘আমরা সাধ্য মতো ওষুধপত্র দিই। তা ছাড়া, সরকারি পরামর্শ মেনে রোগীকে হাতে না রেখে প্রয়োজন মনে করলেই হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই।’’

 

(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও। 

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন