বানতলায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করতে আনা হল সাপ-শিকারিদের (স্নেক ক্যাচার)।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসকদের এক অনুষ্ঠানে সাপ নিয়ে তাঁর অস্বস্তির কথা বলেছিলেন। তারপরই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। বৃহস্পতিবার বিকালে বানতলা চর্মনগরীরতে বিভিন্ন প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সভামঞ্চ ছাড়াও আশপাশে কোনও সাপ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখেন সাপ-শিকারিরা। সাপ ধরার জন্য সুন্দরবনের ঝড়খালি থেকে বনদফতরের তিনজন সাপ-শিকারিকে নিয়ে আসা হয়।

সম্প্রতি এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসকদের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রচণ্ড গরমে এবং বর্ষার সময় সাপের উপদ্রব বাড়ে মাঠেঘাটে। এ জন্য তিনি কৃষকদের বিশেষ ধরনের জুতো ব্যবহারের কথাও বলেন। তিনি ইলিয়ট পার্কে হাঁটতে গিয়ে বেশ কয়েকবার সাপ দেখেছেন বলেও ওই অনুষ্ঠানে জানান। সাপের উপদ্রবে তিনি ওই পার্কে হাঁটা বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও জানান।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বানতলা চর্মনগরীর যে জায়গায় অনুষ্ঠানে হাজির হন, সেই এলাকায় মাঠের মধ্যে বড় বড় ঘাস ও আশপাশে অনেক ঝোপঝাড় রয়েছে। এ জন্য প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন-সহ এই সব এলাকায় কেউটে, গোখরো, কালাচ, চন্দ্রবোড়া সহ বিভিন্ন ধরনের সাপের উৎপাত রয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোন ত্রুটি না রাখতে এ দিন সাপ-শিকারিদের হাজির করানো হয়েছিল। স্নেক ক্যাচার স্টিক ও সাপ ধরার অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে হাজির ছিলেন সাপ-শিকারিরা। এক সাপ-শিকারি সম্রাট মালি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী আসবেন বলে আমাদের বন দফতর থেকে আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল ছাড়াও আশপাশে সাপ আছে কিনা তা আমরা তা খতিয়ে দেখেছি। সাপ দেখতে পেলেই তা ধরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে।’’

সাধারণত কোনও অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় হাজির থাকে দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা ,স্বাস্থ্য দফতর, ব্লাড ব্যাঙ্ক-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর।এই বার প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে দেখা গেল বন দফতরের সাপ-শিকারি ও সর্প বিশেষজ্ঞদের। এ ব্যাপারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগের ডিএফও সান্তোষা জিআর বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর ওই অনুষ্ঠানের আগে ওই এলাকায় সাপ দেখা গিয়েছিল বলে আমাদের জানানো হয়। সেই মতো আমাদের কর্মীদের ওই এলাকায় পাঠানো হয়।’’