একটি বহুতলের তেতলায় অফিস-ঘরের জানলার কাচ মুছছিলেন প্রতিবন্ধী এক যুবক। সেখান থেকে আচমকাই পড়ে গিয়ে আহত হলেন পলাশ চট্টোপাধ্যায় নামে ওই ব্যক্তি। সোমবার দুপুরের ঘটনা। ওই যুবকের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে। বহুতলের উপরে উঠে কাজ করতে যে যে সুরক্ষা-বিধি মেনে চলা দরকার, এ ক্ষেত্রে তার কোনওটিই পালন করা হয়নি বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বৌবাজার থানার কাছেই ৯, ওয়েস্টন স্ট্রিটের এক বহুতলে তেতলার একটি অফিসে কাজ করেন পলাশ। সম্প্রতি তিনি ওই চাকরিতে ঢুকেছেন। ওই বাড়িতে একাধিক সংস্থার অফিস রয়েছে। এক নিরাপত্তারক্ষী সৌগত দাস বলেন, ‘‘২টো নাগাদ অফিসের পিছন দিক থেকে বিকট আওয়াজ শুনি। ছুটে গিয়ে দেখি, রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছেন এক যুবক।’’ অফিসের কর্মীরাই ১০০ ডায়ালে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। মিনিট দশেকের মধ্যে পুলিশ পৌঁছে পলাশকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, তাঁর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, অফিসের নীচে রক্তের দাগ। কর্মীরা জানালেন, তেতলায় একটি বেসরকারি অফিসের কর্মী পলাশ। কালীপুজো উপলক্ষে ওই অফিসের ছাদে প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে। সামনে পুজো বলেই অফিসের জানলা মুছছিলেন তিনি। ওই অফিসের জানলাগুলিও বড়। পুলিশের ধারণা, জানলার উপরে পা দিয়ে বাইরের দিকের কাচ মুছতে গিয়ে ভারসাম্য রাখতে পারেননি পলাশ। আচমকাই পড়ে যান।

এই ঘটনায় অফিসের মালিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কলকাতার বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এ দিন ওই অফিসে গিয়ে দেখা যায়, শাটার নামানো। কর্মীদের একটা বড় অংশ অভিযোগ করেছেন, ‘‘মালিকের কথা মতোই নিশ্চয় ওই কাজ করছিলেন পলাশ। শারীরিক প্রতিবন্ধী এক যুবককে দিয়ে এমন কাজ করানোর আগে মালিকেরই আরও সতর্ক নজর রাখা উচিত ছিল।’’ যদিও বৌবাজার থানার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আহত যুবক জানিয়েছেন, তিনি নিজের দায়িত্বেই জানলার কাচ মুছছিলেন। দুর্ঘটনার জন্য তিনি নিজেকেই দায়ী করেছেন।’’

এই ধরনের ঘটনায় কি অফিসের মালিকের বিরুদ্ধে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করতে পারে না? উত্তরে ডিসি (সেন্ট্রাল) সুধীর নীলকান্তম বলেন, ‘‘ঘটনার তদন্ত চলছে। মালিকের বিরুদ্ধে গাফিলতি প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’