• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ছাত্রকে মার, অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষক

Wounded
হাসপাতালে: অসুস্থ ছাত্র শুভজিৎ মালাকার। নিজস্ব চিত্র

Advertisement

বিশ্রাম নেওয়ার ‘অপরাধে’ এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বসিরহাটের ভ্যাবলা-ট্যাঁটরা স্যার রাজেন্দ্র হাইস্কুলের এই ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে দশম শ্রেণির ওই ছাত্র।

পুলিশ জানিয়েছে, শুভজিৎ মালাকার নামে ওই ছাত্রকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ওই কিশোরের দাদা তাপস মালাকার রামকৃষ্ণ ঘোষ নামে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাটের ভ্যবলা কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শুভজিৎ স্কুলে ভাল ছেলে বলেই পরিচিত। তার বাবা পরেশবাবু জানান, ওই দিন শুভজিতের বন্ধুরা ফোনে বলে, ‘‘শুভজিৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছে।’’ এই খবর পেয়ে তাপস স্কুলে যান। পুলিশ জানায়, এরপরেই তাকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, ওই দিন রাত ৯টা নাগাদ জ্ঞান ফেরে শুভজিতের। কিন্তু তারপর থেকেই শুভজিৎ বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে বলে জানান তার মা মঞ্জুদেবী। বসিরহাট হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘাড়ে আঘাত লেগেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুবীর লাহিড়ি বলেন, ‘‘ছেলেটি আগে থেকেই স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছে। ক্লাসে দুষ্টুমি করছিল বলে একটা চড় মারা ছাড়া আর কোনও ঘটনা ঘটেনি।’’ তবে এ কথা অস্বীকার করে পরেশবাবু বলেন, ‘‘আমার ছেলের এ সব কোনও রোগ নেই। শিক্ষকের মারেই ও অসুস্থ হয়েছে। কাউকে চিনতেও পারছে না।’’

কী হয়েছিল?

শনিবার রাতে জ্ঞান আসার পর শুভজিৎ জানায়, টিফিনে খেলা করে ক্লাসে ঢোকার পর শরীরটা খারাপ লাগছিল। তা দেখে এক শিক্ষক তাকে শেষ বেঞ্চে বসে বিশ্রাম নিতে বলেন। পরের ক্লাসে বাংলার শিক্ষক রামকৃষ্ণবাবু এসে মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখে কিছু জিজ্ঞাসা না করেই পিঠে ও ঘাড়ে চড় মারতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। অসুস্থ বলে হাত জোড় করলেও রেহাই মেলেনি বলে শুভজিৎ জানায়। তার কথায়, ‘‘এরপরে বুকে কষ্ট হওয়ায় দম নিতে পারছিলাম না। তারপর আর কিছু মনে নেই।’’

রামকৃষ্ণবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কোনও ভাবে যোগাযোগ করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন