অজানা জ্বর এবং ডেঙ্গি গত বছর প্রায় মহামারীর আকার নিয়েছিল বারাসতের দেগঙ্গা ব্লকে। মারণ-ডেঙ্গিতে প্রাণ গিয়েছিল শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে ছাত্রছাত্রীদের অনেকেরই। 

ডেঙ্গি ও অজানা জ্বরে কাবু হয়ে দিনের পর দিন স্কুলে হাজিরা দিতে না পারার মতো ঘটনাও ঘটেছিল। ফলে ওই এলাকার বিভিন্ন স্কুলের পঠনপাঠন প্রায় শিকেয় ওঠে। কিন্তু এ বছরে এর পুনরাবৃত্তি চান না কেউই। তাই ডেঙ্গি-রোধে দেগঙ্গার স্কুলে স্কুলে শিক্ষক-পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতার প্রচার চালাতে চায় প্রশাসন। 

এ বছরে দেগঙ্গায় ডেঙ্গিতে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে এক শিক্ষিকার। দমদম, দেগঙ্গা, হাবড়ার মতো ডেঙ্গি-উপদ্রুত এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ভাবে প্রচার চালাচ্ছে প্রশাসন, পুরসভা ও পঞ্চায়েত। 

জেলাশাসক অন্তরা আচার্য বলছেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করে জেলার কোথায় কী করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।’’ 

কিন্তু তা-ও যথেষ্ট নয়। তাই এ বার স্কুলপড়ুয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও সচেতনতা প্রচারে কাজে লাগাতে চাইছে প্রশাসন। দেগঙ্গার বিডিও অনিন্দ্য ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘সরকারি প্রচেষ্টা ছাড়াও ডেঙ্গিরোধে জনসচেতনতা জরুরি। তাই শিক্ষক-পড়ুয়াদের নিয়ে সে কাজটাই করার চেষ্টা হচ্ছে।’’ 

ডেঙ্গিতে যাতে আর প্রাণ না যায়, তার জন্যে স্থির হয়েছে, দেগঙ্গা এলাকার স্কুলপড়ুয়াদের এ নিয়ে শপথবাক্য পাঠ করাবে স্কুল। তাদের হাতে হাতে দেওয়া হবে ডেঙ্গি সংক্রান্ত লিফলেটও, যাতে তা ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। 

পোস্টার-প্ল্যাকার্ড-ব্যানারে প্রচার চালানোর পাশাপাশি, ডেঙ্গি নিয়ে সচেতনতা প্রসারে অংশ নেবে পড়ুয়ারাও। পাশে থাকবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এ প্রসঙ্গে বেড়াচাঁপা চক্রের স্কুল পরিদর্শক মহম্মদ হাবিবুল্লা বলেন, ‘‘বিদ্যালয় চত্বরে জলের ট্যাঙ্ক, চৌবাচ্চা ও নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, জ্বর হলে চিকিৎসার পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে।’’ 

গত অগস্টে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় বেলপুর বেলেডাঙ্গা এফ পি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা দীপিকা পালের (৩৮)। তাঁর স্বামী, পেশায় শিক্ষক বরুণ পাল বলছেন, ‘‘আমার স্ত্রীর চিকিৎসার সময়টুকুও দেয়নি ডেঙ্গি। তাই সকলে মিলে ঝাঁপিয়ে না পড়লে এই মারণ রোগকে রোখা যাবে না।’’

দেগঙ্গাকে ডেঙ্গিমুক্ত করতে এ বার তাই কোমর বেঁধে নামতে চলেছেন শিক্ষক-পড়ুয়ারা।