লজ বুক হয়ে আছে আগে থেকেই। নদী পার হয়ে শুধু সাগরে পৌঁছতে পারলেই হল। কলকাতা থেকে সাগর মেলা দেখতে আসা কলকাতার এক বৃদ্ধ দম্পতি কাকদ্বীপের লট-৮ ঘাটে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভেসেলের অপেক্ষায়। দ্রুত ফুরিয়ে আসা শীত বিকেলের ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপটায় যথেষ্ট কাতর দু’জনেই। কিন্তু ভেসেলের খোঁজ করতে গিয়ে মাথায় হাত পড়ল বৃদ্ধ দম্পতির।

কেন? কারণ সওয়া ৪টের ভেসেল চলে যাওয়ার পরে দিনের মতো পারাপার বন্ধ। কারণ, মুড়িগঙ্গার নদীর পলি। নির্দিষ্ট চ্যানেলের পলি কাটার কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়নি। তার ফলে চরে আটকে পড়ছে ভেসেল। অতএব গঙ্গাসাগর মেলায় আসা হাজার হাজার পুণ্যার্থী আটকে পড়ছেন কাকদ্বীপে। 

যেমন আটকে পড়েছেন কলকাতার ওই বৃদ্ধ দম্পতি। তাঁরা আশ্বাস একটা পেলেন যদিও। রাত সাড়ে ১০টার পরে জোয়ার এলে ফের ভেসেল চলাচল শুরু হবে। কিন্তু, বৃদ্ধের প্রশ্ন, ‘‘অত রাতে মুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারব তো?’’ এ প্রশ্ন শুধু ওই বৃদ্ধবৃদ্ধার নয়, হাজার হাজার পুণ্যার্থীর প্রশ্ন এবং আশঙ্কা একই।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাগর মেলা সরকারি ভাবে ১০ জানুয়ারি থেকে ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু মুড়িগঙ্গার পলি কাটার কাজ এখনও শেষ হল না। মাসখানেক ধরে ড্রেজিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার ৮টি যন্ত্র পলি কাটার কাজ করেছে। ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলার পরে তা বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পলি তোলার কাজ ঠিকমতো না হওয়ায় সমস্যার সমাধানও অধরা বলে অভিযোগ স্থানীয় মানুষজনের। অমাবস্যা ও পূর্ণিমার কোটালের ভাটার সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেসেল মাঝনদীর চরে আটকে থাকছে। 

বৃহস্পতিবার লট-৮ থেকে কচুবেড়িয়াগামী এক যাত্রিবাহী ভেসেল আটকে পড়ায় চরম হয়রান হন যাত্রীরা। তাঁদের উদ্ধার করতে প্রায় মাঝরাত হয়ে যায়। ভেসেলে আটকে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বার সাগর মেলার জন্য ভূতল পরিবহণ ও হুগলি জলপথ পরিবহণ দফতর থেকে আনা ৩০টি ভেসেল লট-৮ থেকে মুড়িগঙ্গা নদী ও সাগর দ্বীপের কচুবেড়িয়া ঘাট পর্যন্ত সারা দিন পারাপার চলছে। কিন্তু পলি কাটার কাজ শেষ না হওয়ায় সেগুলি নিয়মিত চলাচল করতে পারছে না।

জেটির দায়িত্বে থাকা কর্মীদের অভিযোগ, চর কেটে ফেলার কথা ছিল নদী বাঁধের পাশে। সে কারণে চরের মাটি রাখার জন্য বাঁধ-লাগোয়া বেশ কিছু এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তা রাখা প্রায় হচ্ছেই না। পরিকল্পনা ছিল, ১ নম্বর জেটি থেকে কচুবেড়িয়ার দিকে ১ নম্বর বিদ্যুৎ টাওয়ার পর্যন্ত চর কাটলে ভাল চ্যানেল তৈরি হবে। তাতে ভাটার সময়েও ভেসেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু তা হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁরা বলছেন, ‘‘আমরা জানিয়েছিলাম, সব ক’টি ঘাট থেকে যাত্রী ওঠানামা করলে ভিড় এড়ানো যাবে। কিন্তু তা না করে কেবলমাত্র ৪ নম্বর ঘাট থেকে যাত্রী তোলা হচ্ছে, আর নামানো হচ্ছে ৩ নম্বর ঘাটে। এর ফলে ৪ নম্বর ঘাটে একাধিক ভেসেল পর পর এসে দাঁড়িয়ে থাকছে।