তাঁরা মনে করেন, বিষাক্ত সাপেদেরও বেঁচে থাকবার অধিকার রয়েছে। তাদের মেরে ফেলা উচিত নয়। এই ভাবনা থেকেই ঘরে ঢুকে পড়া পূর্ণবয়স্ক এক গোখরোকে না মেরে সেটিকে ধরে তাঁরা পৌঁছে দিলেন থানায়।

ওঁরা তিন বন্ধু। বিশ্বজিৎ সরকার, রঞ্জিত জোয়ারদার ও তাপস সরকার।বাড়ি গোপালনগর থানার নহাটা এলাকার গোলকপুর ও ভবেরহাটি। বিশ্বজিৎ কলেজপড়ুয়া। বাকি দু’জন কাজ খুঁজছেন।
সাপ ধরবার কোনও অভিজ্ঞতা তাঁদের ছিল না। ভরসা বলতে ছিল, ইউটিউবয়ে দেখা সাপ ধরবার কিছু আদব-কায়দা। চোখে দেখা সেই বিদ্যা দিয়েই তাঁরা বাজিমাত করলেন। সকলেই তাঁদের সাহসিকতার তারিফ করছেন।

কী ঘটেছিল?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে গোলকপুর এলাকার বাসিন্দা এক ব্যক্তির বাড়িতে কালী পুজোর আয়োজন হয়েছিল। রাত তখন সাড়ে দশটা। তিনবন্ধু ছিলেন ওই বাড়িতে। হঠাৎ তাদের কাছে খবর পৌঁছয়, পাশেই অমল মণ্ডলের বাড়ির রান্নাঘরে একটি গোখরো ঢুকে পড়েছে। তিন বন্ধু ওই বাড়িতে গিয়ে দেখলেন, রান্নাঘরের মাটির মেঝের গর্তে ঢুকে পড়েছে সাপটি। আতঙ্কিত সেই বাড়ির লোকজন।

জারবন্দি সেই সাপ।

তাঁরা একটি কোদাল চেয়ে নিয়ে কাজে নেমে পড়লেন। বিশ্বজিৎ খুব সাবধানে কোদাল দিয়ে গর্তটির মাটি খুঁড়তে লাগলেন। এমন ভাবে মাটি খোঁড়া হচ্ছিল, যাতে কোদালের আঘাত সাপটির শরীরের না লাগে। আশপাশে তখন কৌতূহলী মানুষের ভিড়। একটু খোঁড়ার পর সাপটির দেখা মিলল। ফোঁসফোঁস আওয়াজ করছে সেটি। ভয় না পেয়ে বিশ্বজিৎ সাপটির লেজ ধরে সেটিকে গর্ত থেকে বের করে আনেন। পাশ থেকে অনেকেই তখন দাবি তুলছিলেন, সাপটিকে মেরে ফেলা হোক। রঞ্জিত সকলকে শান্ত করে জানালেন, তাঁরা সাপটিকে মারবেন না। সেটিকে বন দফতরের হাতে তুলে দেবেন।একটি লাঠি দিয়ে সাপের মুখে চেপে ধরেন রঞ্জিত। তারপর ধীরে ধীরে একটি বস্তার মধ্যে ঢোকানো হয়। পরে সাপটিকে একটি জলের জারে রাখা হয়।

রবিবার ওই তিন বন্ধু গোপালনগর থানায় দিয়ে এসেছেন সাপটিকে। থানার ওসি অয়ন চক্রবর্তীও তাঁদের সাহসিকতায় মুগ্ধ। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সাপটি বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জারের মধ্যেও সাপটি ফণা তুলে ছিল। লোকজন দেখতেও এসেছিলেন।

গ্রাম-গঞ্জে সাপ ঘরে ঢুকলে সাধারণত তাদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তবে ওই যুবকদের জন্য কিছুটা হলেও স্থানীয় মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতার ছাপ দেখা যাচ্ছে। জানা গেল, বেশ কিছু আগে বনগাঁর খলিতপুরের এক যুবকও বাড়িতে ঢুকে পড়া সাপ না মেরে সেটিকে ধরে বন দফতরের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বিশ্বজিতেরা জানান, আমাদের মতো সাপও তো প্রাণী। সমাজের অঙ্গ। প্রাণিজগতে ভারসাম্য রক্ষা করতে ওদের বেঁচে থাকাটা জরুরি। তা ছাড়া সাপ তো কারও কোনও ক্ষতি করে না।শুধু ইউটিউব দেখে সাপ ধরা কতটা কঠিন? রঞ্জিতের কথায়, ‘‘ইউটিউবয়ে সাপ ধরবার ভিডিও আমরা প্রায়ই দেখি। সেই মতোই চেষ্টা করেছি। তবে, সাপ ধরতে সব চেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন, সেটি হল সাহস। সাপ ধরতে গিয়ে সাহস হারালে চলবে না।’’